NL24 News
১৭ মে, ২০২৩, 2:21 PM
“আপনি আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা-শেখ হাসিনাকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী”
-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া-
যুক্তরাজ্যের (ইউকে) প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একজন সফল অর্থনৈতিক নেতা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, "আপনি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।"সুনাক বলেন, "আমি আপনাকে অনেক বছর ধরে অনুসরণ করছি। ।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এটাও বলেছেন, তার দুই মেয়ে ও স্ত্রী তার (শেখ হাসিনা) বড় ভক্ত।তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তার মেয়েরা শেখ হাসিনার মতো মহান নেতা হবেন এই কামনা করেছেন এবং এ-ও বলেছেন, ‘আপনি আমার দুই মেয়ের জন্য মহান অনুপ্রেরণা।’ শুক্রবার (৫ মে) কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের দ্বিপাক্ষিক সভা কক্ষে তাদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সুনাক এই উদ্ধৃতি করেন।এছাড়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, ভূমিহীন ও গৃহহীন বাংলাদেশের জনগণকে সরকারি খরচে বাড়ি দেওয়া, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তাঁর গৌরবময় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তী সময়ে ৬ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার কথা উল্লেখ করে সুনাক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য।তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উন্নয়নের 'রোল মডেল' হিসেবে বর্ণনা করেন।এই অকাট্য স্বীকারোক্তি আজ শুধু যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশিদেরই নয়; বরং বিশ্ব নেতৃত্বই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রতিনিয়ত অভিহিত করছেন প্রশংসাসূচক নানা অভিধায়। একনিষ্ঠ দেশপ্রেমের আভিজাত্যে, রাজনৈতিক সৌকর্যে, রাষ্ট্র পরিচালনার মুনশিয়ানায়, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার দূরদর্শিতায়, মানবিক ঔদার্যে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন বারবার।তিনি একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক, একজন সফল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক বিশ্বনেতা। গত ২৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর তার অর্জনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্যগাথার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন বিশ্বের প্রভাবশালী দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাপ্রধানরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ম্যাজিক্যাল নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে বিশ্বে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় অবস্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে, সে কথাগুলোও বিশ্বনেতারা স্মরণ করেছেন অকপটে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতাসীন হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে পরপর আরো দুবার নির্বাচনে জয়লাভ করে চতুর্থ মেয়াদে (এবং টানা তৃতীয় মেয়াদে) শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তার শাসনামলে গত ১৩ বছরেই অর্থনীতি ও সামাজিক সূচকের নানা ক্ষেত্রে আগের তুলনায় প্রভূত উন্নতি হয়েছে।২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা ‘দিন বদলের রূপকল্প-২০২১’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যে রূপকল্পে উল্লেখ ছিল বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার অঙ্গীকার। ২০১৮ সালেই বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত’ দেশের ক্যাটাগরি থেকে ‘উন্নয়নশীল’ দেশের ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে গত ১৩ বছরের গড় অর্জন, এর আগের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। ২০০১-০৬ সালে যেখানে গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, সেখানে ২০০৯-২১ সালে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৯ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত হয়। মাথাপিছু আয় ২০২২ সালে এসে দাঁড়ায় ২ হাজার ৮২৪ ডলার।
বর্তমান সরকারের গত ১৪ বছরের প্রচেষ্টা ও কর্মপরিকল্পনায় দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, রেলওয়ে, বিমান প্রভৃতি স্থানে কম্পিউটারাইজড অনলাইন সেবা চালু হয়েছে। আইসিটি রফতানি ২০১৮ সালেই ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ৩৯টি হাইটেক পার্কের মধ্যে এরই মধ্যে নির্মিত নয়টিতে ১৬৬টি দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেছে। করোনা মহামারীর সময়ও অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, করপোরেট অফিস এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে দেশে মুঠোফোনের সংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি। বঙ্গবন্ধু-১ সাটেলাইট উেক্ষপণ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা প্রদান ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার সহজ হয়েছে।ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি তৃণমূল জনগণের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নীরব বিপ্লবও গত এক যুগের উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে মাইক্রোক্রেডিট, সাধারণ ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং গ্রামাঞ্চলেও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করেছে এবং জনগণের ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলাকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এ কঠিন সত্যটি মাথায় রেখে সরকার ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২০২১’ নামে একটি শতবর্ষের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। ক্লাইমেট ভালনারেবল গ্রুপের সভাপতি হিসেবে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ফোরামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানা পরামর্শ ও উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। সমুদ্র বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৮ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, ফলে সমৃদ্ধ ব্লু-ইকোনমির সুফলপ্রাপ্তির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে ৬৮ বছরের অমীমাংসিত স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ১১১টি ছিটমহলের ১৭ হাজার ৮৫১ একর জায়গা বাংলাদেশের সীমানায় যুক্ত হয়েছে।বঙ্গবন্ধু অনুসৃত ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’—বৈদেশিক নীতি অনুসরণে সরকার সব বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো উন্নত শক্তিশালী রাষ্ট্র বা অর্থনৈতিক জোটের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ও বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশগুলোর সঙ্গে সর্বতোভাবে যোগাযোগ রেখে কাজ করে যাচ্ছে।বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা চার মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে অনেক দূর এগিয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের চাকরিতে নারীদের অংশগ্রহণ সন্তোষজনক। সরকারের সচিব, করপোরেট গ্রুপের চেয়ারম্যান বা পরিচালক পদে নারীরা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। স্কুল-কলেজে উপবৃত্তি প্রদান করার ফলে নারীশিক্ষার যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে।
বাংলাদেশ এখন দ্রুত উন্নয়নশীল প্রথম পাঁচটি দেশের একটি। আর্থসামাজিক খাতে বাংলাদেশের বিস্ময়কর উত্থান ও অগ্রযাত্রা এখন সারা বিশ্বে স্বীকৃত। প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দি ইকোনমিস্টের ২০২০ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশের স্থান নবম। ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ’ তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবল-২০২১’-এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও সার্বিক অগ্রগতি এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৫টি বড় অর্থনীতির একটি হবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। উন্নয়ন গবেষকরা আজকের বাংলাদেশকে ‘উন্নয়নের রোল মডেল, ‘এমার্জিং টাইগার’, দক্ষিণ এশিয়ার ‘তেজি ষাঁড়’ প্রভৃতি অভিধায় ভূষিত করছেন। তাছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’সহ উপরে বর্ণিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার ও নাগরিকদের দেশপ্রেম নিয়ে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনা । বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে এবং রূপকল্প ২০৪১ অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিগণিত হবে, সেই উন্নয়নের রাস্তা ধরেই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সেটা আরো একবার বিশ্বনেতাদের উক্তিতে উঠে এসেছে।