নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ নভেম্বর, ২০২৩, 8:49 PM
গাইবান্ধায় যুবলীগ নেতাকে রগ কেটে হত্যা ঘটনায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার-৩
আবুল হোসেন বাবলুঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে যুবলীগ নেতার রগ কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার মুল পরিকল্পনাকারীসহ মোট তিন জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩ গাইবান্ধা। বুধবার দুপুরে র্যাব-১৩ রংপুর সদর ব্যাটালিয়ান ক্যাম্পে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এইতথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩'র অধিনায়ক কমান্ডার মোঃ আরাফাত ইসলাম। তিনি জানান, এই যুবলীগ নেতা জাহেদুল হত্যাকান্ডের মুলহোতা সোনারায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মারুফ। জয়নাল মিয়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহব্বায়ক সদস্য এবং মোজাম্মেল হক একজন জামায়াত কর্মী। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম (৪৫)কে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াত ও বিএনপির কিছু দুষ্কৃতিকারী হুমকি, ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল।
একপর্যায়ে গত ১২ নভেম্বর রাত্রী আনুমানিক ১১টার ঘটিকায় ভিকটিম জাহিদুল ইসলাম মোটরসাইকেল যোগে সুন্দরগঞ্জ থানার বামনডাঙ্গা হতে ছাইতনতলা আসার পথে শাখামারা ব্রীজের উপরে পৌঁছামাত্র পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা অতর্কিত হামলা করে জাহিদুলকে এলোপাথারী লোহার রড, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আঘাত করে ও ধারালো ছোরাদ্বারা রগ কেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে এলাকাবাসী জাহিদুলকে সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করালে অবস্থা আশঙ্খা জনক দেখে চিকিৎসকগণ উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরদিন ১৩ নভেম্বর রমেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে মৃত্যু বরণ করেন জাহিদুল। ঘটনার পর পরই আসামীরা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ ২৩ জন এজাহার নামীয় আসামী ও ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা রুজু করে।
যার মামলা নং-০৯, তারিখ-১৩/১১/২০২৩, ধারা- ৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/১০৯/১১৪/৩৪ পেনাল কোড। উক্ত ঘটনায় পুলিশ ৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে র্যাবের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত এবং গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র্যাব। এক পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ নভেম্বর ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত হরিপুর ইউনিয়নের রাঘবচর এলাকার পূর্ব শিবরাম গ্রামের মোঃ আঃ ছাত্তার এর ছেলে জয়নাল মিয়া (৩৪) কে পীরগাছা থানাধীন এলাকা হতে গ্রেফতার করে। এরপর সুন্দরগঞ্জ থানাধীন পশ্চিম কৈবদ্যনাথ গ্রামের মৃত মুসলিম ব্যাপারীর ছেলে মোজাম্মেল হক (৫০) এবং হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী পশ্চিম কৈবদ্যনাথ গ্রামের আঃ মালেক এর ছেলে মারুফ (২৫) কে রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী থানাধীন এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা জানায় যে, মারুফ এর পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামীরা তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জাহিদুল ইসলাম (৪৫) কে হত্যার ছক ক্সতরী করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মারুফ কে গত ১২ নভেম্বর শাখামারা ব্রীজের উপর নিয়ে আসে এবং তারই পরিকল্পনা অনুযায়ী পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা তার সহযোগীরা বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে হত্যা করে। গ্রেফতারকৃত আসামীরা সম্প্রতী ঘটে যাওয়া কিছু নাশকতার ঘটনার সাথে জড়িত বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে র্যাব সর্বাত্মক প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে যাচ্ছে। বলেও জানান অধিনায়ক।আসামীদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান আছে।