ঢাকা ০২ মে, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
মহান মে দিবস আজ : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেফতার করা প্রয়োজন: নাহিদ ইসলাম প্রথমবারের মতো নারী পুলিশ সুপার পাচ্ছে ঢাকা জেলা কবে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় আসছে জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘বিএনপির সময়ে শেয়ারবাজার লুটপাটের সুযোগ ছিল না, এবারও থাকবে না’ অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১২ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি বিরোধী দলের আপত্তির মুখেই দুই বিল পাশ ২৩৮৬৫টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, সংসদে আইনমন্ত্রী ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী

“বাংলাদেশ সবসময় ফিলিস্তিনি নিপীড়িত মানুষের পাশে”

#

১১ অক্টোবর, ২০২৩,  4:25 PM

news image

-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া-

ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের অধিকার রক্ষায় পাশে থাকবে বাংলাদেশ। ফিলিস্তিনে ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ সবসময় সোচ্চার ছিল এবং এখনও সোচ্চার রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামেও বাংলাদেশ ফিলিস্তিনীদের সমর্থন করে আসছে। ফিলিস্তিনীদের উচ্ছেদে ইসরাইলের ইহুদীবাদীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কখনও কখনও তারা উগ্রপন্থা বেছে নিচ্ছেন। নিরপরাধ ফিলিস্তিনীদের হত্যা করছে। আর এই উগ্রগোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে ইসরাইল। এমনকি অতীতে ইসরাইলের একজন প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ইহুদীবাদী উগ্রগোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। ফিলিস্তিনীদের অধিকার রক্ষায় সেখানকার জনগণ যে আন্দোলন করছেন, আমাদের বাংলাদেশ সবসময় তাঁদের পাশে রয়েছে। অতীতে যেমন থেকেছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। বাংলাদেশ সরকার সবসময় ফিলিস্তিনীদের পাশে ছিল এবং এখনও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ফিলিস্তিনী জনগণের সঙ্গে সহমর্মিতা জানিয়ে আসছেন। নীতিগতভাবেই বাংলাদেশ ফিলিস্তিনীদের পাশে রয়েছে। আর সেই জন্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও বাংলাদেশ ফিলিস্তিনীদের অধিকার রক্ষায় সমর্থন ও সহযোগিতা করে আসছে। ফিলিস্তিনীদের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্যও বাংলাদেশ ভূমিকা রেখে আসছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজে ফিলিস্তিনীদের শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন। উল্লেখ্য, প্রতিবছর ফিলিস্তিনী সংহতি দিবস পালিত হয়ে থাকে। ১৯৮৭ সালের ২৯ নভেম্বর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘ইউনাইটেড নেশনস পার্টিশন প্ল্যান ফর প্যালেস্টাইন’ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এরপর থেকে এ দিনটি আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিনী সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘ প্রস্তাব অনুযায়ী ইসরাইল ও ফিলিস্তিন-আলাদা দুটি রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও এখন পযর্ন্ততা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনের প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর গভীর সম্পর্ক এবং ফিলিস্তিনি ভাইদের প্রতি এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনের জন্য তাদের বৈধ আকাঙ্ক্ষার প্রতি তার দৃঢ় সংহতির কথা উল্লেখ করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুই ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনের পাশে সবসময় দাঁড়িয়ে তাঁদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও দেশের বাহিরে যেখানেই অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম এবং অসংগতি দেখা দিবে সেখানেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বেজে ওঠেছে। ইতিহাস আমাদের তাই জানান দেয়। পৃথিবীর অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বের নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছিলেন। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমগ্র বিশ্বের শরণার্থী, সেই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য যে মানবিকতা দেখিয়েছেন তা বিশ্ববাসীর কাছে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। আজ বিশ্বদরবারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ বা ‘মানবতার মা’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন। নেদারল্যান্ডসের নামকরা ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিন সাময়িকী তাদের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছিল ‘শেখ হাসিনা : মাদার অব হিউম্যানিটি’।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের

সীমান্ত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে লাখ লাখ নির্যাতিত মানুষের জীবন রক্ষা করেছেন। ফিলিস্তিনের জনগণ তাঁদের অধিকার রক্ষায় যেভাবে ঈসরায়েলের হামলার শিকার হচ্ছে তা বাংলাদেশ কোনোভাবেই মেনে নিবেনা। ফিলিস্তি নের অধিকার রক্ষার এই যুক্তিক আন্দোলনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তথা বাংলাদেশের পুরোপুরি সমর্থন রয়েছে। মানবতার মা খ্যাত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনীদের অসহায় জনগোষ্ঠীর উপর ঈসরায়েলের এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ব্যক্ত করেছেন। তবে অত্যন্ত অভাক করার বিষয় হচ্ছে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারে বিশ্বাসী বাঙালি জনগণ ও সরকার যেখানে অসহায় ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে থাকা অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছে সেখানে গণতন্ত্রের গান গেয়ে গলা ফাটানো সন্ত্রাসী সংগঠন বিএনপি এই ব্যাপারে একদমই নিরব। বিএনপির এমন নিরবতার পিছনে কারণ খুঁজতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ঈসরায়েলের সাথে বিএনপির গোপন আঁতাতের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ওঠে আসে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পালনকর্তা হিসেবে দাবি করা যুক্তরাষ্ট্রের ঈসরায়েলকে সমর্থনই প্রমাণ করে আসলে তাঁরা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের রক্ষাকর্তা নাকি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের নামে অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরে তাঁদের হস্তক্ষেপ করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঈসরায়েলকে সমর্থন করায় বিএনপি এখানে নিরব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঈসরাইলকে সমর্থন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আঁতাত রক্ষার্থে ঈসরায়েলের এমন মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের ব্যাপারে বিএনপির নিরবতাই প্রমাণ করে বিএনপি কতটা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারে বিশ্বাসী। তাঁরা বরং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারে কথা বলে বাঙালি জনগণের সাথে প্রতারণা করে বাংলাদেশের ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা করছে।

এছাড়াও ঈসরায়েলের সাথে আঁতাত করে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিএনপি বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। সরকার উৎখাতে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদকে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি ধর্মান্ধ মুসলিম দেশ হিসেবে উপস্থাপন করে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হবে। বর্তমান এই পরিস্থিতিতে বিএনপির নিরবতা মানবতাবিরোধী ও সন্ত্রাসীরাষ্ট্র ইসরায়েল ও তার গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বিএনপির গোপন আঁতাতের বিষয়টি একদম পরিষ্কার। চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা আরো প্রকট হয়েছে। দেশবিরোধী এই চক্রের অপতৎপরতায় বিএনপি সর্বদাই জড়িত ছিলো এবং এখনও আছে। বিএনপি-জামায়াত তথা দেশবিরোধী গোষ্ঠী ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য

যেকোনো কিছুই করতে পারে এটাই তার প্রমাণ। এমনকি দেশকে বিক্রি করে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না তারা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ঈসরায়েলের সাথে বিএনপির গোপন আঁতাতের জন্য ঈসরায়েলের এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বিএনপি এতোটা নিরব। এদিকে সামনে বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জনসমর্থনহীন বিএনপি দল জানে যে ভোটে যুদ্ধে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসা তাঁদের পক্ষে আর কখনোই সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ঈসরায়েলের সাথে আঁতাত রক্ষা করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার জন্য বিএনপি পুরোপুরি ব্যস্ত। ফিলিস্তিনি অসহায় জনগোষ্ঠীর পক্ষে কথা বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ঈসরায়েলের আঁতাত নষ্ট করে বিএনপি নিজেদের বিপদ ডেকে আনার পক্ষে নয়। তাই তারা একদমই নিরব। এই ব্যাপারে তাঁদের কোনো ধরনের মাথাব্যথাই নেই বলে মনে হচ্ছে। সর্বোপরি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারে বিশ্বাসী বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণের যেখানে ফিলিস্তিনি অসহায় জনগোষ্ঠীর পক্ষে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে সেখানে বিএনপির নিরবতা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিএনপির আঁতাত ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির কাছে হার মেনেছে গণতন্ত্র ও মানবতা। বিএনপির এই ষড়যন্ত্র ও আঁতাতের অপরাজনীতি বন্ধ করা উচিত। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসতে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন সেটা বিএনপির বোঝা উচিত। সেই সাথে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা মুখে মুখে নয় বরং মনেপ্রাণে তা ধারণ করে সেই অনুযায়ী তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা উচিত। ষড়যন্ত্র ও আঁতাতের রাজনীতি করে

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসীন হওয়ার চিন্তা করা নিছক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সবসময়ই অসহায় এবং নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে সোচ্চার। যখন যেখানে কোনো ধরনের অসংগতি ঘটবে সেখানে বঙ্গবন্ধুর ন্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপোষহীন থাকবে বরাবরের ন্যায়। আমরা আশা করছি ফিলিস্তিনকে সমর্থনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রমনা জনগণের যে একাত্মতা তার প্রভাব পড়বে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। জনগণের সমর্থন নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে বরাবরের ন্যায় সরকারের ক্ষমতায় এসে অসহায় বাঙালি জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার সুযোগ হবে বলে আশা করি।

লেখক: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া
ট্রেজারার
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
সাবেক চেয়ারম্যান
ট্যুরিজম অ্যান্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম