স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্র
০১ এপ্রিল, ২০২৩, 10:47 PM
NL24 News
০১ এপ্রিল, ২০২৩, 10:47 PM
স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্র
|| অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া ||
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দৈনিক প্রথম আলোর একজন ফটোসাংবাদিক একটি কোমলমতি শিশুর হাতে ১০ টাকা দিয়ে ‘আমাগো মাছ, মাংস আর চাউলের স্বাধীনতা লাগবো’ বলে যে মন্তব্য করিয়েছেন তা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে অবুঝ শিশুকে ব্যবহারের নির্লজ্জ দৃষ্টান্ত। গত ২৬ মার্চ ২০২৩ তারা যা করেছে তা অগ্রহণযোগ্য, অন্যায়। সাভারে স্মৃতিসৌধের গেট ধরে ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছেলের ছবিসহ উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ‘পেটে ভাত না জুটলে স্বাধীনতা দিয়া কী করুম। বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। আমাগো মাছ, মাংস আর চাইলের স্বাধীনতা লাগব’। প্রথম আলো উল্লেখ করে এই কথাটি বলেছে সাভারের দিনমজুর জাকির হোসেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী, বিএনপি-জামায়াত পন্থী লোকজন এতে ব্যাপক খুশি হয় এবং এই সংবাদ ও ছবিটি অনলাইনে ছড়াতে থাকে। আমরা যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসি, আমাদের স্বাধীনতায় উদ্বেলিত হই, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে আনন্দের অবগাহনে ভেসে যাই, তাদের কাছে এই সংবাদটি ভালো লাগেনি। আমরা জানি সারা দুনিয়াতে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, মানুষকে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে ভালো থাকবার জন্য, বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। আমেরিকা ও ন্যাটো বনাম রাশিয়া-চায়না, এই ধরণের একটি বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সব দেশ ভুগছে এটা আমরা জানি ও মানি।
শিশুটির এই অসত্য ভাষণ এবং প্রথম আলোর উক্ত সংবাদটি ভাইরাল হবার ১৭ মিনিট পর প্রত্যাহার করা- এই সত্যকেই প্রতিষ্ঠিত করে যে একটি শিশু তাদের দ্বারা অর্থের বিনিময়ে সরকারকে বিব্রত করার রাজনৈতিক কারণে ব্যবহৃত হয়েছিল, যা একটি শাস্তিযোগ্য বিবেক বর্জিত গর্হিত অপরাধ। একটি শিশুকে অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করা, কিছু বলতে বাধ্য করা এবং রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার এই ঘটনাটি আমাদের বাসন্তীকে জাল পরিয়ে ছবি তুলে সরকার বিরোধী প্রোপাগান্ডা চালাবার কথাই মনে করিয়ে দেয় উল্লেখ করে তারা বলেন, পরবর্তীতে বাসন্তী বলেছিল, তাকে টাকার বিনিময়ে শাড়ির ওপর জাল পরিয়ে ঐ ছবিটি তুলেছিল সাংবাদিক। স্বাধীনতা আমাদের অস্তিত্ব। সেখানে আঘাতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। জনগণও সেটাই প্রত্যাশা করে। আর এতে যাদের মনে আঘাত লাগছে, বুঝতে হবে তারাও এই ষড়যন্ত্রের অংশীদার। সংবাদটি সরিয়ে দিয়ে এটা যে ষড়যন্ত্র তা প্রমাণ করেছে প্রথম আলো। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নতুন কোনো ঘটনা নয়। এক এগারোর সময় শেখ হাসিনাকে মাইনাস করারও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, পদ্মা সেতু নিয়েও অনেক ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। যা এই পত্রিকায় ফলাও করে সেসময় ছাপানো হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে এটা আগের মতোই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরেকটি গভীর ষড়যন্ত্র। যা মেনে নেওয়া হবে না।
সাংবাদিকতা নৈতিকতার সঙ্গে পরিপূর্ণ। সাংবাদিকতার সঙ্গে নৈতিকতাও রক্ষা করতে হবে। সাংবাদিকতার সঙ্গে অপসংবাদিকতা প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ তাদের ছেড়ে দেবে না। দেশের জনগণ প্রতিবাদে নেমেছে, প্রতিবাদ করতেই থাকবে এবং ষড়যন্ত্রের বিষ দাঁত ভেঙ্গে দেয়া হবে। মহান স্বাধীনতার ৫২ বছর দেশবাসী যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করছিল। তখন প্রথম আলো একটি বিশেষ সংবাদ দেশবাসীর দৃষ্টিকটু হয়। এই ষড়যন্ত্রমূলক ও গল্পকাহিনীর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে মহিলা আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার ৫২ বছরে এসেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে মিথ্যাচার, হলুদ সাংবাদিকতা, ও স্বাধীনতা বিরোধী সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত কুড়িগ্রামের চিলমারির বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বাসন্তী'র ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা যায়। ষড়যন্ত্রকারীরা ৭৪ সালে দেশের পরিস্থিতি বুঝাতে জাল গায়ে দিয়ে বাসন্তীর ছবি ছাপিয়েছে। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা দিয়েছিল, স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল। সেই ষড়যন্ত্র এখনো চলমান রয়েছে। গত ২৬ মার্চ কি কারণে সবুজকে-জাকিরের নাম দিয়ে সংবাদ ছাপা হল? সেই সংবাদ তারা কেন এবং কি উদ্দেশ্যে ছাপালো? এই পত্রিকাটি (প্রথম আলো) সব সময় আমাদের নেত্রী ও দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
দেশের বিরুদ্ধে এইসব ষড়যন্ত্র রুখতে হবে। বাংলাদেশ যেই সময়টাতে বিশ্ব মানচিত্রে উন্নয়নের এক অনন্য নিদর্শন, ঠিক তখন প্রথম আলো কেন এই সংবাদটি প্রকাশ ও প্রচার করল সেটি যখন ভাবছি, সেই মুহুর্তে এই সংবাদটি যে সর্বৈব মিথ্যা সেটি উন্মোচন করেছেন আইনজীবী ও সাংবাদিক নিঝুম মজুমদার। তার সাথে ভিডিওতে একাত্তর টিভির তুখোড় সাংবাদিক ফারজানা রূপাকেও দেখেছি। তারা সবুজ নামের সাত বছরের বালকটিকে খুঁজে বের করেছেন যাকে প্রথম আলোর সাংবাদিক জাকির হোসেন নাম দিয়ে, পরিকল্পিতভাবে সাভারের স্মৃতি সৌধের গেটে ফুল হাতে দাঁড় করিয়ে একটি কাল্পনিক উদ্ধৃতি সাজিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। এই সংবাদ শুধুমাত্র তাদের অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছিল এবং জনমত এই সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকলে তারা এর শিরোনাম পরবর্তীতে পাল্টে দেয়। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধে লিখবে, তাতে আমাদের আপত্তি নেই, কিন্তু তাদের অবস্থান যখন মিথ্যাচারের মাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে উৎখাত করা, এবং আমাদের স্বাধীনতা দিবসের দিন আমাদের স্বাধীনতার যৌক্তিকতাকে মিথ্যা ছবি দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা, তখন আমরা সেই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ না করে পারি না।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির শুভক্ষণে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে বাংলাদেশের। হাজারো চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ক্রমশ সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে লাল-সবুজের এই দেশ। বিশে^র মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি আজ স্ব-মহিমায় উদ্ভাসিত। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে আজকের এই উত্তরণ যেখানে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়ার ইতিহাস। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে সাহসী ও গতিশীল উন্নয়ন কৌশল গ্রহণের ফলে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর ও উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের এ রূপান্তরের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বসভায় আপন মহিমায় স্থান করে নেয়া একজন বিচক্ষণ ও সফল রাষ্ট্রনায়ক। জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই সকল ধাপ অতিক্রম করে বাংলাদেশ খুব দ্রুত বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কাতারে শামিল হবে।
দেশে দারিদ্র্যের হার হ্রাস, গড় আয়ু প্রায় ৭৪ বছর ৪ মাসে উন্নীত হওয়া, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৬০ শতাংশে উন্নীত করা, বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই তুলে দেয়া, মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতি দান, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারী নীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ। এখন বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাওয়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর তালিকায় অন্যতম। ষড়যন্ত্র করে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যহত করা যায় না।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া
ট্রেজারার
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
ও
সাবেক চেয়ারম্যান
ট্যুরিজম অ্যান্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।