ঢাকা ১৭ মে, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সাংবাদিকদের সাথে নবাগত পুলিশ সুপারের পরিচিতি সভা লিটনের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি, ধ্বংসস্তূপ থেকে টানছেন টাইগারদের বাগদাদে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু সারা হয়ে আসছেন মৌ ডিজিটাল সার্ভে কনসালটেন্ট-এর উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টাকারীর সন্ধান চেয়ে পুরস্কার ঘোষণা ফারাক্কা চুক্তিই বলে দেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকবে কি না: মির্জা ফখরুল অর্থনীতি ঋণাত্মক অবস্থায়, ঘুরে দাঁড়াতে লাগবে অন্তত ২ বছর: অর্থমন্ত্রী ফারাক্কা ব্যারাজের বিরূপ প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতেও পড়ছে: রিজভী

সুন্দরবনে আইন অমান্য করে আগাম মধু সংগ্রহ: ক্ষতি হচ্ছে অর্থ ও পরিবেশের

#

৩০ মার্চ, ২০২৬,  10:31 AM

news image

মনিরুজ্জামান মনি: সুন্দরবনে প্রতিবছর ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মধু আহরণের মৌসুম শুরু হলেও, এর আগেই কিছু অসাধু মৌয়াল অপরিপক্ব মৌচাক কেটে মধু সংগ্রহ করছে। ফলে একদিকে যেমন মধুর স্বাভাবিক উৎপাদন কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে মৌমাছির প্রজনন প্রক্রিয়া। বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপরিণত চাক কেটে নেওয়ার কারণে মৌমাছির ডিম ও লার্ভা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের বংশবিস্তার ব্যাহত করছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে পুরো বনজ ইকোসিস্টেমে, কারণ পরাগায়নের মাধ্যমে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য টিকে থাকে। আগাম মধু চুরির ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে বৈধভাবে মধু সংগ্রহকারী মৌয়ালরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন, কারণ মৌসুমে প্রত্যাশিত পরিমাণ মধু আর পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গেছে, দেশব্যাপী সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধুর ব্যাপক চাহিদা। তাই ক্রেতাদের কাছ থেকে অধিক দাম পাওয়ার লোভে অসাধু মৌয়ালরা মাছ ধরার অনুমতি নিয়ে অপরিপক্ব চাক থেকেই মধু কেটে লোকালয়ে এনে চড়া দামে বিক্রি করছেন। এই মধু বিক্রি করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুন্দরবনে গিয়ে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের ভিডিও প্রকাশ করছেন। এসব বিষয় বনবিভাগের নজরে আসলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা গ্রামের মৌয়াল আব্দুর রহিম ও জামাল হোসেন জানান, অপরিপক্ব চাক থেকে মধু সংগ্রহ করার ফলে মৌচাকের সংখ্যা কমে যায়। এতে প্রকৃত মৌয়ালরা তাদের আয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। বন থেকে আগাম সংগ্রহ করা এসব মধুর বেশিরভাগ বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের আওতাধীন বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৌয়াল বলেন, “এখন মধু কাটতে বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া লাগছে না। মাছের পাশ নিয়ে সুন্দরবনের প্রবেশ করে মধু কেটে আনছি। বিনিময়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কিছু মধু দিতে হচ্ছে। এ সময়টা মধুর অনেক দাম পাওয়া যায়। ভালো মধু হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে খুব চাহিদা থাকে। আমরা পাইকারি ১২শ থেকে ১৩শ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি।” স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই মধু আহরণ নিশ্চিত করতে হলে নিয়ম মেনে মৌসুম শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা এবং মৌচাক সংরক্ষণ করা জরুরি। বন বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে সুন্দরবন থেকে মধু আহরণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৪৬৩ কুইন্টাল। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮ কুইন্টাল। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আরও কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৮২৫ কুইন্টাল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ১৮৩ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়েছিল। তবে চুরি করে আহরণ করা মধু বন বিভাগের হিসাবের বাইরে থাকে। অন্যদিকে আগাম চাক কাটার কারণে মৌসুম শুরু হলে মধু কম পাওয়া যায়। এর ফলে বন বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, এপ্রিল মাসের ১ তারিখ থেকে মধু সংগ্রহের পাশ দেওয়া হবে। আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি। যাতে সুন্দরবন থেকে কেউ মধু চুরি করতে না পারে। যদি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম