ঢাকা ১৬ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
একদিনে ডেঙ্গুতে ৩ জনের প্রাণহানি দুই কোটি হালালে তৎপর ডিডি, চেয়ারম্যান রহস্যজনক নিরবতায় বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের সমাধান ১ বছরেও সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ চায় ঢাকা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাছচাষিদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে চমকপ্রদ তথ্য ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর ভিডিও কলে টাইগারদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ২০২৭ সালের রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে যা জানা গেল

যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ এপ্রিল, ২০২৬,  10:55 AM

news image

বিশ্ব অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের উত্তাপ। জ্বালানি তেল, সার, ভোজ্য তেল, খাদ্যশস্য, শিশুখাদ্য আমদানি এমনকি সোনার বাজারেও পড়েছে যুদ্ধের প্রভাব। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধের কারণে পাল্টে গেছে বিশ্ববাণিজ্যের চিত্র। হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করতে না পারায় প্রভাব পড়ছে জ্বালানি খাতে। কাতার, সৌদি আরব, লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশের তেল ও গ্যাস কূপগুলো ইরানের হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিঘ্ন হচ্ছে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ। এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। জ্বালানির দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। সংকট এড়াতে কোনো কোনো দেশ সরকারি ছুটি ঘোষণা করছে। দ্বিগুণ দামে এলএনজি আমদানি করছে বাংলাদেশ।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এ যুদ্ধ সব হিসাবনিকাশ পাল্টে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যা ভেবেছিল তা হয়নি। ইরান হয়তো কিছুতেই পিছু হটবে না। তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা ধরে ফেলেছে। মনে হয় এ যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে। বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়বে অন্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন কভিড-১৯ মহামারির পর বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এতটা কঠিন সময় আর আসেনি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যপণ্যের বাজারে প্রভাব পড়লেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বলছে, বিশ্ব অর্থনীতি অনিশ্চয়তার পথে চলে গেছে। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা বলেছে, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। আগামী মৌসুমে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে। কোনো কোনো অঞ্চলে খাদ্যসংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে সাপ্লাই চেইনকে নতুন করে অস্থির করেছে। সরবরাহ বিঘ্ন, শিপিং ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের ঘাটতির কারণে প্রায় সব খাতেই মূল্যস্ফীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্ববাজার-ব্যবস্থার সূচক ঘেঁটে দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এলএনজির দাম স্পট মার্কেটে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত লাফ দিয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগর করিডরে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। খাদ্যপণ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে। এর সঙ্গে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব যুক্ত হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে গমের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ১৮ থেকে ২২ শতাংশ বেড়েছে। সূর্যমুখী ও সয়াবিন তেল ২০-২৫, চিনির দাম ১৫-১৮ এবং ভুট্টা ও পশুখাদ্যের দাম ১২-১৭ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রভাব পোলট্রি ও গবাদি পশুর মাংসে পড়ছে। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের খরচ কোথাও কোথাও ৪ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। নিরাপত্তার কারণে বিভিন্ন রুটে জাহাজ চলাচল কমেছে ৬০ শতাংশ। অধিকাংশ জাহাজ দীর্ঘ পথে কেপ অব গুড হোপ দিয়ে ঘুরে গন্তব্যে যাচ্ছে। বেড়েছে কনটেইনার ভাড়াও। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বিমার প্রিমিয়াম ৭০ শতাংশ পর্যন্ত।

সূত্র জানান, শুধু শিপিং ব্যয় বাড়ার কারণে সব আমদানি পণ্যের দাম বেড়েছে। শিল্পকারখানার কাঁচামাল, ধাতু, রাসায়নিক, সার, কপার, নিকেল, অ্যালুমিনিয়াম, চিপ ও ইলেকট্রনিকস শিল্পে ব্যবহৃত ধাতুর দাম ২০ এবং পলিমার, পিইটি রেজিন ও প্লাস্টিক পণ্যের দাম ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে কৃষি খাত। কমবে উৎপাদন। কেননা কাতার থেকে যেসব দেশে সার সরবরাহ করা হয়, সেসব দেশই কৃষিপণ্যের মোট চাহিদার বিরাট অংশের সরবরাহ দিয়ে থাকে। ইতোমধ্যে সারের দাম ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাড়তি দামেও সার পাচ্ছে না অনেক দেশ। সরবরাহ চেইন প্রায় ভেঙে পড়েছে। আসছে মৌসুমের কৃষি উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম