ঢাকা ২১ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ৭৫ স্বাস্থ্যকর্মী বিক্ষোভে উত্তাল কাশ্মীর, নিহত ২৪ বিএনপি কখনোই একদলীয় শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ সরকারি চাকরিজীবীদের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাবে টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে নেমে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু পেনশনে বড় সুখবর, বাড়বে আর্থিক সুবিধা মোহাম্মদপুরের অপরাধীদের কড়া হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধেও তৎপর ছিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

#

০৫ জুলাই, ২০২৩,  5:05 PM

news image

-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া-

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কোনো এক অদ্ভূত কারণে যুদ্ধাপরাধের বিচারের সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছেন। সম্প্রতি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ১১২টি আন্তর্জাতিক সংগঠন জাতিসংঘের শান্তি মিশনে র‌্যাবকে নিষিদ্ধ করার দাবি করেছে। এ নিয়ে তারা জাতিসংঘের কাছে একটি চিঠিও দিয়েছে। শুধু চিঠি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তারা এই চিঠির বিবরণী তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। এটি থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে পরিচিতি সংগঠনগুলো তাদের ম্যান্ডেট লঙ্ঘন করেছে। একটি দেশের বিরুদ্ধে তারা সুস্পষ্টভাবে অবস্থান গ্রহণ করেছেন। কারণ, যদি বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‌্যাবের বিরুদ্ধে সত্যি সত্যি কোন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে তাহলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কিংবা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রথম দায়িত্ব ছিলো বাংলাদেশ সরকারকে এ সম্বন্ধে অবহিত করা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে জানানো এবং এ ব্যাপারে যদি বাংলাদেশ সরকার বা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করতো, সেক্ষেত্রে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করতো। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানগুলো একটি সুনির্দিষ্ট স্বার্থ হাসিলের জন্যই এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে। বর্তমান সময়ের মতো পূর্বেও মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধে তৎপর ছিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নামক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন দুটি।

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির প্রায় প্রতিটি রায় আর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতি এসেছে পাশাপাশি সময়েই। প্রতিটি বিবৃতিতেই সংস্থাটি যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর না করার আবদার জানিয়েছে এই কথা বলে যে, এই বিচার ‘আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন’ নয়। এভাবেই এই সংস্থাটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান করেছিল। শুধু মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নয় বরং জঙ্গি হামলায় করা বিভিন্ন বিচারের বিরুদ্ধেও তাদের অবস্থান ছিলো বরাবরের মতো। যেমন একটি জঙ্গি হামলার মামলা ১৩ বছর ধরে চলার পরও জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও তার দুই সহযোগীর ফাঁসির আদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছিলো এই সংগঠন। আসামিরা সবাই বিচারিক আদালত এবং উচ্চ আদালতের প্রতিটি ধাপেই আইনি সুযোগ পেয়েছে। তারপরও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলো।বিভিন্নভাবে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের পাঁয়তারা করেছিল।

অপরদিকে বাংলাদেশকে নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সংস্থাটির বিরুদ্ধ অবস্থান আজকে নতুন নয়। এখন যেভাবে তারা বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীকে নিয়ে অগ্রহণযোগ্য অভিযোগ করে বিবৃতি দিয়েছেন ঠিক তেমনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে ও একই অবস্থানে ছিলো এই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নামক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি। ২৭শে অক্টোবর ২০১৫ সালে দেয়া এক কড়া বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টান্যাশনাল বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের বিচার ও আপিল প্রক্রিয়াকে ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যেসব মুক্তিযোদ্ধা ‘মানবতাবিরোধী' অপরাধ করেছেন, তাঁদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছিল। শুধু তাই নয়, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় স্থগিত করতে আহবান জানিয়েছিল। উক্ত বিবৃতির শেষাংশে অ্যামনেস্টি বলেছিল যে, ১৯৭১ সনে স্বাধীনতাপন্থি বাহিনীও গুরুতর অপরাধ করেছিল। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত কিংবা তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। এই বিবৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছিল যেটি নিঃসন্দেহে ক্ষমা চাওয়ার মতো একটি অপরাধ ছিল।

একটি বিষয় স্পষ্ট যে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্ট ইন্টারন্যাশনাল এর মতো আরও কিছু মানবাধিকার সংগঠন মৃত্যুদ- নিয়ে তখনই অবস্থান নিয়েছে যখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা বা জঙ্গি হামলা মামলা অথবা বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় কারও মৃত্যুদ- হয়েছে। কিন্তু অন্য কোনো মামলা নিয়ে তারা কখনও এই ধরনের বিবৃতি দেয় না। মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের অপপ্রচেষ্টা থেকে শুরু করে আজকে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে করা বিরুদ্ধপূর্ণ বিবৃতি সত্যিকার অর্থে সংগঠন দুটির উদ্দেশ্য ও লক্ষের পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এই দুটি সংগঠন আমাদের দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশের বিরদ্ধে ষড়যন্ত্র করে দেশের গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলাকে বিনষ্ট করতে অপপ্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বিশ্বে সিরিয়া, ফিলিস্তিন, লিবিয়া, পাকিস্তান এর মতো দেশসমূহে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে কিন্তু এগুলো নিয়ে এই দুই সংগঠনের কোনো ধরনের মাথাব্যথা নেই। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী যেখানে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বে প্রশংসনীয় সেখানে তাদের উপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপবাদ দিয়ে শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহনে নিষেধাজ্ঞার আহবান জানিয়েছেন। দুই সংগঠনের এই ধরনের কর্মকা- বিশ্বে মানবতাবিরোধী কর্মকা- এবং জঙ্গিবাদকে উৎসাহ দেওয়ার শামিল। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এদের এমন বিরুদ্ধ অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে তারা বাংলাদেশের বিরোধী শক্তি বিএনপি- জামায়াতের সাথে আঁতাত করে বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে মেতে উঠেছে। 

তাদের প্রতিনিয়ত এমন বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থানের মূল কারণ জানতে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিপুল পরিমাণ অনুদান দিচ্ছে তারেক জিয়া এবং জামায়াত। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় থেকেই বাংলাদেশবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করে। সেইসময় যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে ব্যবহার করে তাদের পক্ষে লবিং করার জন্য। সেই ধারায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মীর কাসেমের মধ্যে স্বীকৃত ধনাঢ্য যুদ্ধাপরাধীরা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে। এটি পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এই অর্থ দেয়ার কারণেই হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সেই সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছিল। শুধুমাত্র হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে নয়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকেও তারেক এবং জামায়াতের ধনাঢ্যরা অর্থায়ন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই সমস্ত অর্থায়নের কারণেই তারা বাংলাদেশের ব্যাপারে নেতিবাচক বিভিন্ন প্রতিবেদন রিপোর্ট প্রকাশ করছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তাদের এই অবস্থান মূলত বিএনপি-জামায়াতের লবিং রাজনীতির অপতৎপরতা ফসল।

একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়ে বলা যাচ্ছে যে, সমস্ত প্রতিবেদন এবং রিপোর্টগুলোকে তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এই রিপোর্ট গুলো কিভাবে তৈরি হবে এবং কিভাবে প্রকাশ করা হবে সে ব্যাপারে অর্থের লেনদেন হচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু বিভিন্ন দেশে এই প্রতিষ্ঠান সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে এবং এ কারণে তাদেরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গতবছর ভারত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কার্যক্রমকে বন্ধ ঘোষণা করেছিল এবং ভারত সরকার তদন্ত করে পেয়েছিল যে, কিছু কিছু ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের দ্বারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছে। একইরকম অভিযোগ করেছে রাশিয়া। চীন তো অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে কোন স্বীকৃতিই দেয় না। এরকম যখন অবস্থা তখন সুস্পষ্ট যে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থের বিনিময়ে ইচ্ছে মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির এত খারাপ হয়নি যে একটি বাহিনীর সম্বন্ধে ঢালাওভাবে নেতিবাচক মন্তব্য করতে হবে, এর পিছনে রয়েছে বিএনপি-জামায়াতের সুগভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নামক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন টাকা খেয়ে ২০১৫ তে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার অপপ্রচেষ্টা করা সত্বেও তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে পারেনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুকৌশলী নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হয়েছে। এখন এই দুই সংগঠন বাংলাদেশের বিরোধী শক্তির সাথে আঁতাত করে তাদের টাকা খেয়ে পূর্বের মতো গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী তথা র‌্যাবের বিরুদ্ধে যেসকল অগ্রহণযোগ্য এবং অবান্তর অভিযোগ করে যাচ্ছে তা সম্পূর্ণ অযুক্তিক। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার শক্তিতে বিশ্বাসী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জনসমর্থন নিয়ে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর করা সব ধরনের ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অখ- রাখার মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে বদ্ধ পরিকর।

লেখক: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া
ট্রেজারার
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
সাবেক চেয়ারম্যান
ট্যুরিজম অ্যান্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম