ঢাকা ৩০ আগস্ট, ২০২৫
সংবাদ শিরোনাম
আল্লাহ ছাড়া কেউ এই নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না: সালাহউদ্দিন তৌহিদ আফ্রিদি কারাগারে রাজধানীর বসুন্ধরা থেকে অস্ত্রসহ ৬ যুবক গ্রেপ্তার উল্লাপাড়ায় বাইচের নৌকার সঙ্গে বরযাত্রীর নৌকার সংঘর্ষ, নিহত ২ ইন্দোনেশিয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ, নিহত ৩ ফোনে নুরের চিকিৎসার খোঁজ নিলেন প্রধান উপদেষ্টা, সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস টেকসই উন্নয়নের জন্য জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা ইনিংস ব্যবধানে টেস্ট হারল বাংলাদেশ নুরের ওপর হামলার নিন্দা ও তদন্তের নিশ্চয়তা প্রেস সচিবের নুরের ওপর হামলা সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ: অ্যাটর্নি জেনারেল

ভূঞাপুর উপজেলায় গো-খাদ্যের হাট বসেছে পূর্ণবাস-গোবিন্দাসী বাজারে

#

০৭ আগস্ট, ২০২৫,  12:19 PM

news image

শাহীন খন্দকার: প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়ে থাকে। খাদ্য সংকটে বিশেষ করে গরু-ছাগল চাষীরা বিপাকে পরেন।বাড়ীর চারিপাশে পানি থাকায় কৃষক গরু ছাগলের চাহিদা অনুযায়ী খাবার দিতে পারেন বলে জানান, গোবিন্দাসী খানুড়বাড়ী এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আকন্দ। তিনি বলেন ২০১০ সাল থেকে আবার কেউ কেউ বলেছেন ১৯৮৮ সালের বন্যার পর থেকে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে গোবিন্দাসী বাজারসহ পূর্ণবাসন এলাকায় ঘাসের হাট বসছে। পূর্ণবাসন ঘাসের হাটের বিক্রেতা আব্দুল বাসেত বলেন, একদিকে বর্ষাকাল টানাবৃষ্টির কারনে কোন কাজ না থাকায় যমুনা নদী ভাঙ্গনের ফলে প্রতি বছর চর জেগে উঠছে। জেগে উঠা চরে বর্ষায় কোন ফসল না হওয়ায় প্রচুর ঘাস আগাছা, কাইশাবনের জন্ম হয়। তাই বছর ধরেই কমবেশী সংগ্রহ করে বেচাকেনা হয়। ক্রেতা আব্দুল করিম ডাক্তার জানিয়েছেন, বৃস্টি হলেই গো-খাদ্যেও অভাব দেখা দেয়। তখন নির্ভর হতে হয় এই ঘাসের হাটে। তিনি বলেন, তার রয়েছে ৪টি দুধেল গাভীসহ ৬টি গরুসহ ৬ টি ছাগল।

খড়ের সঙ্গে কাচাঁঘাস কেটে সঙ্গে খৈল, ভুসি, মসুর, ফিড, খেতে দিতে হয় ওষুধ। বর্তমানে গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় গ্রামের মানুষেরা বিকল্প খাদ্য হিসাবে বেছে নিয়েছে চরের ঘাস। প্রতি বোজা ঘাসের দাম নিচ্ছে  ১০০-২০০ টাকা দরে। সেই সঙ্গে আটি বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকা দরে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ৪টি গরু থেকে প্রতিদিন দুধ আসে ৪২ কেজী। বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি দামে। এদিকে ঘাস ব্যাবসায়ী আরিফ আকন্দ বলেন, তাদের নিকট থেকে ঘাস সংগ্রহ করেন, আশ-পাশের গ্রামের গরু-ছাগলের খামারীরা। উল্লেখযোগ গ্রাম গুলো হচ্ছে বাগবাড়ী, নিকরাইলসহ দূরদূরান্তের গরু-ছাগলের পাইকাররা। এছাড়াও গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও মধুপুরের খামারীরা বর্ষা মৌসুমে ঘাস ভূঞাপুর থেকে এসে নিয়ে যায়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঘাস মুলত তারা ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের বিভিন্ন চর থেকে সংগ্রহ করেন। উল্লেখ্যযোগ্য চরগুলো হচ্ছে, নলছিয়ার-চর, কোণাবাড়ী বাইস্তার-চর, গোপলগঞ্জ চর থেকে। ঘাস ব্যাবসীয়রা আরো জানিয়েছেন, প্রতিদিন ব্যাবসায়ীরা ৫০০-১০০০ টাকা করে আয় করেন। এতে তাদের সংসার ভালো-ই চলে যাচ্ছিলো।

কিন্ত বর্তমানে চাল থেকে লবণ সব কিছুর দাম বেড়ে যাওয়াতে কষ্টেই দিন যাচ্ছে। এই ব্যাবসার সঙ্গে প্রায় ৫০ জন জড়িত। তবে এই গো-খাদ্য ব্যাবসায় তাদের কোন অর্থ লগ্নি করতে হয়নি। শুধু শ্রম দিলেই টাকা! কারণ সর্ম্পকে বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে ঘাস হচ্ছে তাই টাকা দিয়ে আনতে হয় না। তবে ভয় থাকে অনেক সময় ঝড়বৃষ্টি হলে যমুনা নদীতে নৌকা পাড়ি দিয়ে আসার পথে অনেক সময় বাতাসে আর পানির ঢেউয়ে নৌকা তলিয়ে যায়। সেই সময়ে ঘাস  যমুনায় তলিয়ে যায় এবং কোন রকম সাতরিয়ে তীরে ফিরে আসা হয়। স্থানীয় কৃষকদের দাবি  সরকার ইচ্ছে করলে ভূঞাপুর উপজেলায় বিভিন্ন চরে গরুর খামার রাষ্ট্রিয় ভাবে করলে সরকার যেমন লাভবান হবেন। তেমনি স্থানীয়ভাবে দুধের চাহিদা পুরণ হবে এবং কিছুটা হলেও বেকারত্বের হাত থেকে চরের নারী-পুরুষেরা মুক্তি পাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটার একটি দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা এই অঞ্চলে গড়ে উঠতে পারে শত শত গরুর খামার। বর্তমানে প্রতিটি চরেই গবাদিপশু থেকে উৎপাদিত দুধ স্থানীয়ভাবে চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করছে বলে জানিয়েছেন।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম