ঢাকা ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু ঢাকার পল্লবীতেও বাসে আগুন এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ১১৪ রানে হার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে খুবির ৪ শিক্ষার্থীসহ আসামি ২৯ আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে মাথায় আঘাত করে হত্যা: পুলিশ সরকারি চাকরিতে তদবির করলেই বিভাগীয় ব্যবস্থা আমরা সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার চাই: মিয়া গোলাম পরওয়ার চিকিৎসাসেবায় বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, দেশে আসছে বিশ্বসেরা প্রযুক্তি ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণের রহস্য জানাল পুলিশ অপ্রতিম হত্যায় গ্রেফতার ৪, অপরাধ স্বীকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পে-স্কেলের সুপারিশ ২-৩ সভাতেই চূড়ান্ত হচ্ছে, মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ জুলাই, ২০২৬,  5:12 PM

news image

আগস্টে নতুন গেজেটের প্রস্তুতি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে সরকার। আগামী আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন বেতনকাঠামোর গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। নতুন এই কাঠামোতে চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর আলোচনা রয়েছে। তবে মূল বেতন ও ভাতা একসঙ্গে কার্যকর হবে, নাকি আগেরবারের মতো দুই বছরে ধাপে ধাপে দেওয়া হবে—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে পর্যালোচনা কমিটির ষষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কমিশনের সুপারিশ এবং আগের বেতনকাঠামোর ত্রুটিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আর মাত্র দুই থেকে তিনটি সভার মাধ্যমেই এই সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে। এরপর তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।


নতুন বেতনকাঠামোতে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন না বাড়িয়ে নিচের দিকের গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন কমিটির বেশির ভাগ সদস্য। মূল বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাও নতুন করে বিন্যাস করা হচ্ছে।


পর্যালোচনা কমিটির সদস্যরা আগামী ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকরের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তারা নিজেরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে মন্ত্রিসভার ওপর ভার ছেড়ে দিচ্ছেন। আগামী ২৩ বা ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় নিয়মিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অথবা প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে যেকোনো দিনের বৈঠকে এটি অনুমোদন হতে পারে।



২০১৫ সালে ঘোষিত অষ্টম বেতনকাঠামোতে বেশ কিছু অসংগতি থাকায় সে সময় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনের বিষয়টি অস্পষ্ট থাকায় পরে আলাদা কমিটির মাধ্যমে তা সমাধান করতে হয়। ওই অভিজ্ঞতার আলোকে এবারের কাঠামোতে যেন কোনো ভুল বা ক্ষোভের সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে পর্যালোচনা কমিটি। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে কাজ চলায় এসব সভার আলোচ্যসূচিও আগে থেকে নির্ধারণ করা হচ্ছে না।


এদিকে, অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামোর ভাতা সংক্রান্ত বিভিন্ন এসআরও (SRO) বা প্রজ্ঞাপনের খসড়া তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। মন্ত্রিসভায় বেতনকাঠামো অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে চূড়ান্ত গেজেট ও এসআরও প্রকাশ করা হবে।


নতুন বেতনকাঠামোর প্রত্যাশা নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সব সরকারি চাকরিজীবী এখন নতুন গেজেটের জন্য অপেক্ষায় আছেন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির দিকে খেয়াল রেখে সরকার দ্রুত এটি ঘোষণা করবে বলে আমরা আশাবাদী। অন্তর্বর্তী সরকার এর অনেক কাজ এগিয়ে রেখে গেছে। এখন সময়ক্ষেপণ করলে চাকরিজীবীদের কাছে ভুল বার্তা যাবে।’


সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও ২০১৫ সালের পর আর কোনো নতুন স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় একই কাঠামোতে থাকায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেডের শেষ ধাপে পৌঁছে গেছেন, ফলে তাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) বন্ধ হয়ে গেছে। জানা গেছে, নতুন কাঠামোতে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির এই ধাপ বাড়ানো হতে পারে।


উল্লেখ্য, বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। গত ২১ জানুয়ারি তারা প্রতিবেদন জমা দেয়। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি ওই প্রতিবেদন মূল্যায়নে বর্তমান পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। অষ্টম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে দুই বছরের বেশি সময় লাগলেও, এবার এক বছরেরও কম সময়ে দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করে আনছে সরকার।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম