পরিস্থিতির কারণে বড় ঋণখেলাপিদের ছাড় বাংলাদেশ ব্যাংকের
নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 11:18 AM
নিজস্ব প্রতিবেদক
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 11:18 AM
পরিস্থিতির কারণে বড় ঋণখেলাপিদের ছাড় বাংলাদেশ ব্যাংকের
১৫ বছর পর্যন্ত পুনঃতফসিল, গ্রেস পিরিয়ড ২ বছর
ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনে বড় ধরনের নীতি সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের আবেদন করা ঋণের স্থিতি ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হলে বিশেষ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর পর্যন্ত সময় দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান মেয়াদের অতিরিক্ত সর্বোচ্চ চার বছর সময় বাড়ানো যাবে।
এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের নতুন করে নীতি সহায়তার জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বড় ঋণখেলাপিদের এই বড় ছাড় দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫-এর আওতায় নীতি সহায়তা পাওয়ার জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নতুন আবেদন করা যাবে। এর আগে ‘ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থাদি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত নীতি সহায়তা সংক্রান্ত বাছাই কমিটি’ থেকে নীতি সহায়তা পাওয়া ঋণগ্রহীতারাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।
নতুন নির্দেশনার সবচেয়ে বড় সুবিধা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণস্থিতির ক্ষেত্রে। কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের জন্য আবেদন করা ঋণ হিসাবগুলোর সম্মিলিত ঋণস্থিতি ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হলে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে।
অন্যদিকে, বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৬/২০২২-এ নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত সর্বোচ্চ চার বছর সময় নির্ধারণ করে ঋণ পুনর্গঠন করা যাবে। তবে যেসব ঋণগ্রহীতার আবেদন করা ঋণ হিসাবগুলোর ঋণস্থিতি ১ হাজার কোটি টাকার কম, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের জন্য বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫-এ নির্ধারিত মেয়াদই প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, আগে বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫ অথবা বাছাই কমিটির আওতায় নীতি সহায়তা পাওয়া ঋণগ্রহীতারাও নতুন নির্দেশনায় বর্ণিত বাড়তি সুবিধা পাবেন। ইতোমধ্যে যে সময় গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে পার হয়েছে, তা নতুন গ্রেস পিরিয়ডের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত মেয়াদ বাড়ানো যাবে।
নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অশ্রেণিকৃত ঋণকে বিশেষ পুনর্গঠনের সুবিধা এবং বিরূপমানে শ্রেণিকৃত ঋণকে বিশেষ পুনঃতফসিলের সুবিধা দেওয়া যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এ সার্কুলারের আওতায় করা সব আবেদন প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট গ্রহণের পর আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নিষ্পত্তি করতে হবে।
এর আগে, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নীতি সহায়তা দিতে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭ জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে একই বিষয়ে ২৪ নভেম্বর ২০২৫ এবং ৭ মে ২০২৬ তারিখে পৃথক সার্কুলার লেটার জারি করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে যেসব ঋণগ্রহীতা ইতোমধ্যে নীতি সহায়তা পেয়েছেন এবং যারা নতুন করে আবেদন করবেন-উভয় পক্ষই নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে বাড়তি মেয়াদ ও পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের সুবিধা পাবেন। তবে আগের সার্কুলার ও এর ধারাবাহিকতায় জারি করা অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৯(১)(চ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।