NL24 News
১৩ জুন, ২০২৩, 4:30 PM
তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে ছয় ইইউ পার্লামেন্টেরিয়ানের চিঠিও লবিস্ট অপতৎপরতার ফসল
-অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া-
বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী, গণতন্ত্র ও জনসমর্থনে অবিশ্বাসী দল বিএনপি-জামায়াত বাংলাদশের জনগণের সমর্থন হারিয়ে এখন তাদের রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে লবিং এবং ষড়যন্ত্রকে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লবিস্ট নিয়োগ করে প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র। কিছুদিন পূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে মার্কিন ৬ কংগ্রেসম্যানের চিঠি এবং বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিউনের কাছে তার ৬ জন এমপির গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে নিরপেক্ষ এবং শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন থাকা সত্বেও নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, স্বচ্ছ ও পক্ষপাতহীন সাধারণ নির্বাচনের আহবান জানানো নিঃসন্দেহে বিএনপি-জামায়াতের লবিস্ট রাজনীতির অপতৎপরতার ফসল। সম্প্রতি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বাংলাদেশে অবাধ, স্বচ্ছ এবং পক্ষপাতহীন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভূমিকা রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থার ছয় এমপি। পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং চলমাল সংকটে সরকার, বিএনপি ও অন্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে টেকসই ও গণতান্ত্রিক পন্থায় সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। সোমবার ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেপ বরেলকে এ-সংক্রান্ত চিঠি দেন ছয় এমপি। ওই ছয় এমপি হলেন– স্টেফানেক ইভান (স্লোভাকিয়া), মাইকেলা সোজড্রোভা (চেক প্রজাতন্ত্র), আন্দ্রে কোভাতচেভ (বুলগেরিয়া), কারেন মোলচিওর (ডেনমার্ক), জাভিয়ের নার্ট (স্পেন) এবং হেইডি হাউটালা (ফিনল্যান্ড)। এর আগেও ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারি বিএনপি লবিস্ট হিসেবে এমপি স্টেফানেক ইভান ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেপকে বাংলাদেশ ইস্যুতে চিঠি দিয়েছিলেন। সেই চিঠিতেও বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত থাকার মিথ্যে অভিযোগে র্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠিতে মিথ্যে অভিযোগ করে বলা হয় যে, চলতি বছরের শেষে অথবা ২০২৪ সালের শুরুতে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার আছে। তবে এ অধিকার এখনও নিশ্চিত হয়নি। কারণ বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য কোনো নির্বাচন ব্যবস্থা নেই। কারচুপিসহ নানা কারণ এবং ভোটাররা অংশগ্রহণ না করায় দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচন ভালো হয়নি। দশম সংসদ নির্বাচনও অংশগ্রহণমূলক ছিল না। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এটি বর্জন করে। একাদশ সংসদ নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানানো হয়।
এই ধরনের মিথ্যে অভিযোগ একটা গণতান্ত্রিক দেশের বিরদ্ধে করা কতটা যুক্তিসম্মত তা আমার বোধগম্য নয়। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারে বিশ্বাসী বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ সরকার নির্বাচনে কারচুপি বন্ধ করতে এবং জাল ভোট দেওয়া বন্ধ করতে ভোটার লিস্টে নামের সাথে ছবি যুক্ত করে দিয়েছেন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন, স্বচ্ছ ভোট দেওয়ার জন্য ইভিএম এর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।অথচ অভিযোগ করা হয়েছে যে বাংলাদেশে গ্রহনযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা নেই। গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পর ও এই ধরনের আন্তর্জাতিক অভিযোগ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের উপর বিএনপি-জামায়াতের লবিং রাজনীতির অপতৎপরতার ফসল।আর বিএনপি-জামায়াতের গণতন্ত্র হরণ করে ক্ষমতায় যাওয়ার এই অপতৎপরতা সত্যিই ন্যাক্কারজনক কর্মকা।গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জাতীয় নির্বাচনে অন্যসব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করা সত্ত্বেও কোন একটা দল অংশগ্রহণ না করতেই পারে।এটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তার জন্য পুরো নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক হয়নি এটা বলা কোনভাবেই যুক্তিসঙ্গত না। বিএনপি দলের ভয় ছিলো যে তাদের কোনো জনসমর্থন নেই তাই অংশগ্রহণ করেও কোনো লাভ নেই।এর ফলে তারা অংশগ্রহণ করেনি।তাই বলে পুরো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অনুচিত।জনসমর্থনহীন বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থেকে ঐ নির্বাচনকে প্রশ্ন করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণূলক ছিল কারণ বিএনপি ছাড়া বাকী সব দলই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল ঐ নির্বাচনে। বাংলাদেশের জনসাধারণের সমর্থনে এবং ভোটে নির্বাচিত আওয়ামিলীগ সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রশ্নে আপোষহীন। আর সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষে যা যা প্রস্তুতি দরকার তা নিশ্চিত করণে আওয়ামিলীগ সরকার বদ্ধ পরিকর। জনসমর্থনহীন বিএনপি-জামায়াত জোট জানে যে তাদের পিছনে বাংলাদেশের জনসাধারণের কোনো ধরনের সমর্থন নেই।এই জন্য তারা নির্বাচনকে প্রত্যাখান করে লবিং রাজনীতির মতো অপরাজনীতি করে বারংবার বাংলাদেশ এবং তার জনসাধারণের গণতান্ত্রিক চর্চাকে ব্যাহত করতে এবং আন্তর্জাতিক যড়যন্ত্রের মাধ্যমে পিছনের দরজা দিয়ে অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হতে অপপ্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের এই অপপ্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে দেশবিরোধী কর্মকা- এবং শাস্তিযোগ্যএছাড়াও চিঠিতে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে যা নিত্যান্তই অবান্তর। কেননা মানবিকতার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সাড়া বিশ্বে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে যাচ্ছে। মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর কর্তৃক নির্যাতিত এবং অত্যাচারিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের মানবাধিকারে বিশ্বাসী আওয়ামিলীগ সরকার নিজের দেশে আশ্রয় দিয়ে এবং এত বছর ধরে তাদের দেখাশোনা করে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছেন পুরো বিশ্বে। সাড়া বিশ্বে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ' মানবতার মা' হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। এমতাবস্থায় কিভাবে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। আমার মনে হয় অভিযোগের ও একটা যুক্তিসম্মত পর্যায় থাকা উচিত এবং তা প্রাসঙ্গিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ একটা গণতান্ত্রিক দেশের বিরদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মিথ্যে অভিযোগ দেওয়া কোনোভাবেই রাজনৈতিক আদর্শের মধ্যে পড়েনা। মানবিকতার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সদা সচেষ্ট বলে আজ বিশ্ব মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান কয়েক ধাপ এগিয়ে এখন ১৯১ টি রাষ্ট্রের মধ্যে ১২৯ তম পূর্ব যা ছিল ১৩৩ তম।এছাড়াও উক্ত চিঠিতে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে বর্তমান সরকার ক্ষমতাকে সুসংহত করতে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিচারবহির্ভূত হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে যাচ্ছে। যা কোনোভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। বাংলাদেশ আওয়ামিলীগ সরকার সবসময়ই গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আপোষহীন। বর্তমান সরকার বিএনপিসহ প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই সুষ্ঠু নির্বাচন এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আহবান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের জনসাধারণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন বন্ধ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য সবসময়ই আহবান করে আসছেন। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জানে যে তারা জনসাধারণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই তাই তারা প্রতিনিয়ত লবিস্ট নিয়োগ করে মিথ্যে দাবি করছেন যে তাদের নেতাকর্মীদের বিচারবহির্ভূত হত্যা, অপহরণ ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। এটাও তাদের আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সমর্থন আদায়ের একটা কৌশল। বাংলাদেশ একটা স্বাধীন দেশ এবং ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের এবং ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশের এক সংবিধান আছে তা পরিচালনার জন্য। এই সংবিধানে অপরাধীদের সঠিক বিচার করার জন্য আইন আছে।যে যা অপরাধ করবে সেই অপরাধের বিচার বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে হয়ে থাকে। আমি নিশ্চিত পৃথিবীর অন্যসব স্বাধীন দেশেও নিজেদের সংবিধান অনুযায়ী অপরাধের বিচার করা হয়। আইন সকলের জন্যই সমান। অপরাধ করলে তার বিচার হবে সে যেই হোক এটাই সত্যি। বিএনপি দলের প্রধান ক্ষমতায় থাকা কালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে দূর্নীতি দূর্নীতি করে অন্যায় করেছে এবং দেশের সংবিধান অনুযায়ী সে সাজা পেয়েছে যা বাংলাদেশের আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতিষ্ঠার একটা সর্বোত্তম উদাহরণ। এটা প্রমাণ করে যে অপরাধী যত বড়ই হোক আইন সকলের জন সমান।