NL24 News
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 6:56 PM
ঢাকা–১৯ আসনে বিএনপির একক আধিপত্য, নাকি শেষ মুহূর্তে বড় চমক
ওবায়দুর রহমান লিটনঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে ঢাকা–১৯ (সাভার–আশুলিয়া) আসনে। শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বইতে শুরু করেছে ভোটের হাওয়া। মাঠপর্যায়ে ধানের শীষের সরব উপস্থিতি চোখে পড়লেও অন্যান্য প্রার্থীরাও শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
সাভার ও আশুলিয়া নিয়ে গঠিত এ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বীর অভাব এবং সুসংগঠিত সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে বর্তমানে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দীন বাবু। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় কর্মী-সমর্থক এবং নিয়মিত গণসংযোগ তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর আলাদা প্রার্থী না থাকায় বিএনপি প্রার্থীর জন্য ভোটের সমীকরণে বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। গণসংযোগকালে ডা. সালাউদ্দীন বাবু শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা এবং এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী দিলশানা পারুল তুলনামূলকভাবে নতুন মুখ হলেও মাঠে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে তিনি শহর ও গ্রাম চষে বেড়াচ্ছেন। তবে জোটের অভ্যন্তরীণ কিছু জটিলতা তার পথকে কঠিন করে তুলেছে। তার অভিযোগ, শরিক দল এলডিবি আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় এবং প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
এলডিবির প্রার্থী হিসেবে সাবেক সেনা কর্মকর্তা চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দীও সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাভার ক্যান্টনমেন্টের সাবেক জিওসি হিসেবে এলাকায় তার ব্যক্তিগত পরিচিতি ও নিজস্ব নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় কাজে লাগাচ্ছেন।
এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী রয়েছন ফারুক খান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি থেকে রয়েছেন ইসরাফিল হোসেন সাভারী, গণঅধিকার পরিষদ থেকে রয়েছেন শেখ শওকত হোসেন, জাতীয় পার্টির থেকে রয়েছেন মো. বাহাদুর ইসলাম এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের থেকে রয়েছেন মো. কামরুল ইসলাম।
বর্তমানে বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগ ও সমর্থকদের উপস্থিতি বেশি চোখে পড়লেও শ্রমঘন এই শিল্পাঞ্চলের ভোটের সমীকরণ শেষ মুহূর্তে বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শেষ পর্যন্ত সাভার–আশুলিয়ার ভোটাররা কাকে বেছে নেবেন, তা জানা যাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই।
উল্লেখ্য, ঢাকা–১৯ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭,৪৭,০৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ৩,৭৯,৯০৭ জন, নারী ভোটার প্রায় ৩,৬৭,১৫০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৩ জন।