নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 3:14 PM
মামুনুল হকের ১৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৩ আসনের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ ও আচরণবিধি প্রতিপালন অনুষ্ঠানে তার ১৩ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন। এই ইশতেহারে সন্ত্রাস, মাদক নির্মূল ও কিশোর গ্যাং সংশোধনের পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
মামুনুল হকের ১৩ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
১. দুর্নীতিমুক্ত ঢাকা-১৩: ভূমি, ট্রেড লাইসেন্স ও জন্মনিবন্ধনসহ সব সেবায় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করে দালালচক্র উচ্ছেদ করা হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট, ঠিকাদার ও অগ্রগতি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।
২. সন্ত্রাস, মাদক নির্মূল ও কিশোর গ্যাং সংশোধন: সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন দেওয়া হবে। কিশোর গ্যাং সংশোধনে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং না মানলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩. নিরাপদ জনপথ ও আইনশৃঙ্খলা: ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি, পর্যাপ্ত সড়কবাতি ও পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। বাজার, টার্মিনাল ও অফিসে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।
৪. যানজট নিরসন ও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা: অসমাপ্ত সড়ক কাজ দ্রুত শেষ করা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অবৈধ নির্মাণ অপসারণ ও সড়ক দ্বীপে সবুজায়ন করা হবে। এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগ ও মেট্রোরেল সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৫. জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সুরক্ষা: সব খাল অবমুক্ত করে সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে। আধুনিক ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
৬. ব্যবসাবান্ধব ঢাকা-১৩: ‘এক ছাতার নিচে সব সেবা’ নীতিতে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। স্থানীয় শিল্প ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।
৭. শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন ও আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। কারিগরি, ভোকেশনাল ট্রেনিং ও আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হবে।
৮. গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান: সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় দুর্নীতি দূর করে ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা হবে।
৯. স্বাস্থ্য ও নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ: সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসন ও আধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা প্রদান করা হবে। বস্তিবাসী পুনর্বাসন ও ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
১০. ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি: সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হবে।
১১. সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নাগরিক স্বাধীনতা: নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন ও রাষ্ট্রীয় দিবস মর্যাদাপূর্ণ উদযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
১২. নারী ও শিশুর অধিকার: নারী নিরাপত্তায় সিসিটিভি ও হটলাইন চালু, ক্ষুদ্র শিল্পে নারীর কর্মসংস্থান, শিশুশ্রম বন্ধ ও ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। পতিতা ও হিজড়াদের পুনর্বাসন করা হবে।
১৩. শহীদ ও বীরদের সম্মান ও জবাবদিহি: মুক্তিযোদ্ধা, জুলাইযোদ্ধা ও শাপলার শহীদদের সম্মান, ভাতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, নিয়মিত জনসাধারণের সঙ্গে ডায়ালগ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হবে।
মামুনুল হক উল্লেখ করেছেন, এই ইশতেহার বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-১৩ আসনের উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।