ডেমোক্র্যাটদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি ইলন মাস্কের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ অক্টোবর, ২০২৬, 11:18 AM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ অক্টোবর, ২০২৬, 11:18 AM
ডেমোক্র্যাটদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি ইলন মাস্কের
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কের কর্মকাণ্ড ও কথিত দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। এমন উদ্যোগের খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশে হুমকিমূলক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন মাস্ক।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে মাস্ক লিখেছেন, ‘যে তরবারি দিয়ে আঘাত করবে, সে তরবারির আঘাতেই মরবে।’ নির্বাচনে জয় পেলে মাস্কের কর্মকাণ্ড তদন্তের বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের পরিকল্পনা নিয়ে সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারের জন্য বিভিন্ন সময় সমালোচিত হওয়া মাস্ক একই পোস্টে আরও লেখেন, ‘যারা আমার সঙ্গে বিরোধে জড়াবে, তাদের বুঝতে হবে যে নেপথ্যে থেকে আসলে কে সুতা নাড়াচ্ছে, তা আমি খুঁজে বের করব। শুধু অনুগত পুতুলদের পেছনে না ছুটে সরাসরি আসল মাথার পেছনেই লাগব।’
ইলন মাস্ক ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম শীর্ষ অর্থদাতা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত এই ধনকুবেরের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স সরকারি চুক্তির মাধ্যমে বড় অঙ্কের সুবিধা পেয়ে থাকে। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলারও প্রধান তিনি।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা দিয়েছিলেন মাস্ক। পরবর্তী সময়ে সরকারি ব্যয় কমানো এবং প্রায় তিন লাখ সরকারি কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের বিতর্কিত উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন তিনি।
বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হয়ে ডেমোক্র্যাটদের দখলে যেতে পারে।
কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলে গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত কমিটিগুলোর নেতৃত্ব পাবেন ডেমোক্র্যাটরা। এসব কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার ক্ষমতা প্রয়োগ করা সম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে মাস্কই ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে পারেন।
পলিটিকোর প্রতিবেদনে প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্য জো লোফগ্রেনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মাস্কের স্বার্থের সংঘাত ও সরকারি পদের অপব্যবহারের যে বিশাল তালিকা সামনে এসেছে, তা এক কথায় স্তম্ভিত করার মতো।’