ঢাকা ২২ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা বিজয়ার আনন্দে মুহূর্তেই বিষাদ, প্রতিমায় সিঁদুর দিতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু ২০৩০ সালে মাছ রপ্তানির লক্ষ্য ১০০ কোটি ডলার খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লায় ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার লাইনচ্যুত ট্রেন ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন পুতিন, জিনপিং ও ট্রাম্প: ক্রেমলিন শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ, মাদ্রাসা ও শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর স্পেনের রাজপরিবারের সম্মাননা পাচ্ছেন মেসি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: এনবিসি পর্যটকদের বিকেল ৪টার মধ্যে সাজেক ভ্যালি ছাড়ার নির্দেশ

২০৩০ সালে মাছ রপ্তানির লক্ষ্য ১০০ কোটি ডলার

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ অক্টোবর, ২০২৬,  11:36 AM

news image

গবেষণায় বরাদ্দ ২০০ কোটি টাকা

২০৩০ সালের মধ্যে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে চায় সরকার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ আয় ছিল প্রায় ৪৫ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সামুদ্রিক চাষ, কাঁকড়া উৎপাদন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা এবং সমুদ্রভিত্তিক নতুন শিল্প বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও গবেষণার ঘাটতি এবং নীতিমালার বাস্তবায়ন এ লক্ষ্য অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ।


বঙ্গোপসাগরের বিপুল সম্পদ কাজে লাগাতে সরকার একাধিক খসড়া নীতিমালা ও নির্দেশিকা তৈরি করেছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য উৎপাদন বাড়ানো, রপ্তানিপণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ।


উৎপাদনে সাফল্য, রপ্তানিতে চ্যালেঞ্জ : জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০২৬ সালের জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নদী, হ্রদ ও জলাভূমি থেকে মাছ আহরণে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় এবং চাষের মাছ উৎপাদনে পঞ্চম। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মাছ উৎপাদন হয়েছে ৫২ লাখ ৫৫ হাজার টন, যা বছরে প্রায় ৫০ লাখ টন অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে বেশি। এখন উৎপাদনের এ সাফল্যকে রপ্তানি আয়ে রূপান্তর করাই বড় লক্ষ্য। এজন্য নতুন বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।


সামুদ্রিক চাষ ও কাঁকড়ায় সম্ভাবনা : সামুদ্রিক চাষ সম্প্রসারণে সরকার খসড়া জাতীয় সামুদ্রিক চাষ নীতিমালা তৈরি করেছে। এতে বিনিয়োগ, উৎপাদন প্রযুক্তির উন্নয়ন ও সামুদ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থা সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নীতিমালাটি কার্যকর হলে সামুদ্রিক শৈবাল, জলজ প্রাণী এবং সমুদ্রভিত্তিক নতুন শিল্পের বিকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


কাঁকড়া উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে তৈরি করা হয়েছে ‘টেকসই কাঁকড়া উৎপাদন, আহরণ, ব্যবস্থাপনা ও রপ্তানি নির্দেশিকা, ২০২৬’-এর খসড়া। এতে বিনিয়োগ আকর্ষণ, আহরণ-পরবর্তী ক্ষতি কমানো, শীতল সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন, মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার প্রস্তুতি : দেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) বাইরে বাংলাদেশের পতাকাবাহী মাছ ধরার জাহাজের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে মৎস্য অধিদপ্তর ‘গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার নির্দেশিকা, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে।


এতে জাহাজের লাইসেন্স, আহরণ করা মাছের তথ্য জমা, নজরদারি, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ, নাবিকদের নিরাপত্তা এবং অবৈধ, অনিয়ন্ত্রিত ও অনিবন্ধিত মাছ ধরা প্রতিরোধের বিধান রাখা হয়েছে।


তবে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণে আধুনিক মাছ ধরার জাহাজ, কার্যকর পর্যবেক্ষণব্যবস্থা, মাছের মজুত সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণসুবিধা প্রয়োজন। বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা না বাড়লে গভীর সমুদ্রের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হবে।


সংরক্ষণ ও গবেষণায় ২০০ কোটি টাকা : সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কুয়াকাটা ও সালিমপুরে দুটি নতুন সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে দেশে ঘোষিত সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ও সামুদ্রিক মৎস্য সংরক্ষণ এলাকার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে।


এসব এলাকা মাছের মজুত পুনরুদ্ধার ও সামুদ্রিক আবাসস্থল রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। তবে সুফল পেতে কার্যকর নজরদারি, বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ এবং উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।


চলতি অর্থবছরের বাজেটে নীল অর্থনীতি বিষয়ে গবেষণা ও উন্নয়নে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকা নির্দিষ্ট নীল অর্থনীতি গবেষণা তহবিলের জন্য। এ অর্থ সামুদ্রিক সম্পদের তথ্য সংগ্রহ, মাছের মজুত নিরূপণ এবং উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।


বাস্তবায়নই বড় পরীক্ষা : মৎস্য রপ্তানি ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শীতল সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার সক্ষমতা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক চাষ ও কাঁকড়া উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।


এজন্য সরকারি সংস্থা, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় এবং বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা জরুরি। পাশাপাশি সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সব মিলিয়ে, ২০৩০ সালের মধ্যে মৎস্য ও মৎস্যজাত  পণ্যের রপ্তানি আয় ১০০ কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য অর্জন নির্ভর করবে খসড়া নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর।


সূৎরঃ বাংলাদেশ প্রতিদিনি

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম