ঢাকা ০৭ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে : রিজভী বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর ৩০ ব্যাংকের এটিএমসহ ডিজিটাল সেবা চালু এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টে বিদায়ী ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন মেসি রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ পদ্মা-মেঘনায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু আজ ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ১৫ বছর পর শাহরুখের সঙ্গে পর্দায় ফিরছেন কারিনা কেনিয়ায় ইবোলায় প্রথম মৃত্যু, একই ফ্লাইটের ২৩ যাত্রীকে খুঁজছে কর্তৃপক্ষ চ্যাটজিপিটিতে পরিকল্পনা করে কানাডায় ৮ খুন, জড়িত সন্দেহে এবার মার্কিন নাগরিক গ্রেফতার নির্দেশ দিলেই বাজার দেখে লেনদেন করবে এআই

চ্যাটজিপিটিতে পরিকল্পনা করে কানাডায় ৮ খুন, জড়িত সন্দেহে এবার মার্কিন নাগরিক গ্রেফতার

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ অক্টোবর, ২০২৬,  11:16 AM

news image

কানাডায় আটজনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিককে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’ ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা করা ১৮ বছর বয়সী তরুণীকে ওই ব্যক্তি অর্থ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছিলেন।


গ্রেফতার ওই মার্কিনির নাম জেমস কোডি ব্রায়ান্ট, বয়স ৩০ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ব্রায়ান্টকে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আটক করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডের আগে প্রায় ছয় মাস ধরে তিনি মূল হামলাকারীকে অর্থ ও কারিগরি পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন।


কানাডা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী স্কুল শুটিংয়ের ঘটনায় মূল হামলাকারী ছিলেন জেসিকা ‘জেসি’ ভ্যান রুটসেলার। তার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার পূর্ব ইতিহাস রয়েছে। হামলার আগে নিজ বাড়িতে মা ও সৎভাইকে হত্যার পর তিনি স্থানীয় একটি স্কুলে গিয়ে ছয় শিশুকে গুলি করে হত্যা করেন।


তদন্তে জানা যায়, হামলার পরিকল্পনা তৈরিতে রুটসেলার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’ ব্যবহার করেছিলেন। অস্ত্র ও সহিংসতা-সংক্রান্ত কথোপকথনের কারণে চ্যাটজিপিটির মালিক প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা দল তাকে অভ্যন্তরীণভাবে শনাক্ত করে এবং তার প্রথম অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়। তবে বিষয়টি পুলিশকে জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি। পরে রুটসেলার নতুন আরেকটি অ্যাকাউন্ট খুলে পরিকল্পনা চালিয়ে যান।


সম্ভাব্য সহিংস কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগাম সতর্ক না করার অভিযোগে নিহতদের পরিবার এবং কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশ যৌথভাবে ওপেনএআই ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।


তবে মার্কিন তদন্তে পরে উঠে আসে, রুটসেলারের সহযোগিতার পরিধি শুধু এআই চ্যাটবট ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। একজন বাস্তব ব্যক্তিও তাকে হামলার প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নে সহায়তা করেছিলেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।


যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রায় তিন বছর আগে একটি ভিডিও মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে ব্রায়ান্ট ও রুটসেলারের পরিচয় হয়। মার্কিন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি নীল ফ্লয়েড এবং এফবিআইয়ের সিয়াটল ব্যুরোর বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ ডাব্লিউ মাইক হেরিংটন জানান, ব্রায়ান্ট রুটসেলারকে নতুন জুতো কেনার জন্য প্রায় ১০০ ডলার এবং একটি লাইটার কেনার জন্য প্রায় ১৫ ডলার পাঠিয়েছিলেন। তবে তারা কখনো সরাসরি দেখা করেছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ তদন্তকারীরা পাননি।


সিবিসির সংগ্রহ করা আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট বা তারও আগে ব্রায়ান্ট জেনেশুনে ও স্বেচ্ছায় রুটসেলারের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছিলেন। ওই বছরের আগস্টে তিনি রুটসেলারকে তাদের পারস্পরিক বার্তাগুলো মুছে ফেলার উপায় খুঁজে বের করতে বলেন। পরে, শুটিংয়ের ভিডিও অনলাইনে প্রকাশের পর পরিচয় গোপন রাখতে গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ভিপিএন ব্যবহারের পরামর্শ দেন।


পুলিশের ভাষ্য, ব্রায়ান্ট কয়েকবার রুটসেলারকে হামলা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করলেও কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানাননি। হামলার দিন রুটসেলার নিজ বাড়িতে মা ও ভাইকে গুলি করার পর স্কুলে যাওয়ার পথে তার গাড়ি চালু হচ্ছিল না। তখন ব্রায়ান্ট ফোনে তাকে গাড়ির ইঞ্জিন চালুর কারিগরি কৌশল বুঝিয়ে দেন। এর ফলে গাড়িটি নিয়ে তিনি স্কুলে পৌঁছে হামলা চালাতে সক্ষম হন।


এ ছাড়া ব্রায়ান্ট ওই হত্যাকাণ্ড অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারে সম্মত হয়েছিলেন বলেও জানিয়েছে এফবিআই। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেন, ব্রায়ান্টের সহযোগিতা না থাকলে রুটসেলার শেষ পর্যন্ত হামলাটি চালাতেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।


গ্রেফতার ব্রায়ান্টের পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োজিত আছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন নাগরিক হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রেই এফবিআইয়ের তদন্তের আওতায় তার বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। কানাডীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে এফবিআই।


সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম