ঢাকা ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
আগামী বছর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী কারামুক্ত জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আগুন দিয়ে অবরোধ মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ পালটাপালটি ধাওয়া, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ ই-রিকশার নিবন্ধন কীভাবে, কারা পাবেন জেনে নিন আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ব্যাংক এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর ১০ বিলিয়ন ডলারে নতুন তেল শোধনাগার নির্মাণ করছে ভারত শ্রমিক আন্দোলন: গাজীপুরে বাড়ানো হলো বিজিবি-নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ধাক্কায় হাসপাতালে ফুটবলার

১০ বিলিয়ন ডলারে নতুন তেল শোধনাগার নির্মাণ করছে ভারত

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৩ নভেম্বর, ২০২৬,  11:17 AM

news image

ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানোর লক্ষ্য

ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলায় প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে নতুন তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল)। অন্ধ্রপ্রদেশের রামায়াপত্তনম বন্দরের কাছে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত শোধনাগারটির বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমএমটিপিএ)।


পলিমার আপডেটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন স্থাপনায় শুধু পেট্রোলিয়াম পণ্যই নয়, উৎপাদন করা হবে বিভিন্ন ধরনের পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য উপজাতও। বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই, জমি অধিগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে বিপিসিএল। ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।


ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোতে তেল পরিশোধন সক্ষমতা সংকুচিত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় আমদানিনির্ভরতা সামাল দেওয়া এবং ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে নিজস্ব পরিশোধন অবকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।


২০২৮ সালের মধ্যে পরিশোধন সক্ষমতা ৪৫ এমএমটিপিএ করার লক্ষ্য

বর্তমানে মুম্বাই, কোচি ও বিনায় অবস্থিত তিনটি শোধনাগারের মাধ্যমে বছরে মোট ৩৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে বিপিসিএল। ২০২৮ সালের মধ্যে এই সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪৫ এমএমটিপিএতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।


রামায়াপত্তনমের প্রস্তাবিত শোধনাগার চালু হলে কোম্পানিটির সামগ্রিক উৎপাদন ও পরিশোধন সক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যাল খাতে নতুন পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘ মেয়াদে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক তেল পরিশোধন ও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন খাতে দেশটির অবস্থান শক্তিশালী করতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে।


২০৩০ সাল নাগাদ দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে তেলের চাহিদা

ভারতের ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদার বিষয়ে সম্প্রতি শেয়ারহোল্ডারদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন বিপিসিএলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জয় খান্না।


তিনি জানান, ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ। ২০৩০ সাল নাগাদ দেশটিতে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় এই চাহিদা বৃদ্ধির পরিমাণ সর্বোচ্চ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


সঞ্জয় খান্নার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে দৈনিক অপরিশোধিত তেলের চাহিদা প্রায় ৫৫ লাখ ব্যারেল। ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্ববাজারে দৈনিক তেলের চাহিদা ২৫ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের চাহিদা তৈরি হবে ভারতেই।


বিপিসিএল প্রধান আরও জানান, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় রামায়াপত্তনম বন্দরের কাছে নতুন শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স স্থাপনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


নতুন উৎপাদন অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদ্যমান সক্ষমতা সম্প্রসারণেও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিপিসিএল। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ভারতের শিল্পভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে এসব পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম