ঢাকা ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু রাতে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভয়ংকর রূপে ডেঙ্গু, প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে ডব্লিউএইচও’র সতর্কবার্তা পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর সমাবর্তন ঘোষণার হিড়িক, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে ককটেল ফোটালেই ৫ হাজার টাকা, যোগাযোগে ভারতীয় নম্বর: ডিবি মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের জন্য পুলিশের ১২ নির্দেশনা ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল, উত্তাল সাগরে ১৮ জেলে পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ফিলিস্তিনিদের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার অঙ্গীকার কানাডার

সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত বেড়ে ৮২

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  11:38 AM

news image

সুদানে সোনার খনি ধসে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির পশ্চিম কর্দোফান অঞ্চলের আল জারা এলাকায় একটি খনি ধসে অন্তত ৮২ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


এলাকাটি নিয়ন্ত্রণকারী আধাসামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, এখনও অজ্ঞাতসংখ্যক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চালানো হলেও পাথর ও মাটি সরাতে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।


মঙ্গলবার খনির বিভিন্ন অংশ ধসে পড়তে শুরু করলে কয়েক ডজন ক্ষুদ্র খনি শ্রমিক মাটির নিচে আটকা পড়েন। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পরদিন সকাল পর্যন্ত ৮২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


বেঁচে যাওয়া এক খনি শ্রমিক খায়ের আল সায়েদ জাবারা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা তারা জানেন না। জীবিত কিংবা মৃত সবাইকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে পাথর ও মাটি সরানোর জন্য ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।


আরেক খনি শ্রমিক আল আমিন সুলেইমান বলেন, ওই এলাকায় খনির মুখগুলো খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। একটি খনি ধসে পড়লে আশপাশের অন্য খনিগুলোও ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তার ধারণা, মাটির নিচে আটকে থাকা অনেকেই আর জীবিত নেই।


সুদানে খনি ধস নতুন কোনো ঘটনা নয়। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই কাজ করেন হাজারো শ্রমিক। সামান্য দৈনিক মজুরির আশায় তরুণদের অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এসব খনিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।


সুদানের সোনার খনি শিল্পের বড় একটি অংশই ক্ষুদ্র ও অনানুষ্ঠানিক খনির ওপর নির্ভরশীল। এসব খনিতে শ্রমিকেরা হাত ও সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাটি খুঁড়ে সোনা উত্তোলন করেন। পাশাপাশি সোনা পরিশোধনের কাজে পারদ ও সায়ানাইডের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।


২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান যুদ্ধে দেশটির অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের অর্থায়নে সোনা ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে অনেক তরুণ ঝুঁকিপূর্ণ সোনা অনুসন্ধানের কাজে যুক্ত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই পশ্চিম কর্ডোফানের আল জারা-র মতো অনিয়ন্ত্রিত খনিগুলোতে কাজ করছে।


উল্লেখ্য, আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ সুদান মহাদেশের অন্যতম প্রধান সোনা উৎপাদক। দেশটি জানিয়েছে, গত বছর ৭০ টন সোনা উৎপাদন হয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ উৎপাদন।


সূত্র : গালফ নিউজ

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম