নিজস্ব প্রতিনিধি
১৫ মার্চ, ২০২৬, 10:44 AM
সাগরে যেতে পারছে না শত শত ট্রলার
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি বন্দর। ডিজেলের তীব্র সংকটে সাগরে যেতে না পারায় এখানে নোঙর করে আছে শত শত ট্রলার -আমাদের সময় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি বন্দরে নেমে এসেছে স্থবিরতা। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার অজুহাতে স্থানীয় বাজারে সৃষ্টি করা হয়েছে ডিজেলের তীব্র কৃত্রিম সংকট। গত পাঁচ দিন ধরে জ্বালানি তেলের অভাবে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না জেলেরা। ফলে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ মøান হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটছে উপকূলের প্রায় ২০ হাজার জেলে পরিবারের। সরেজমিন পাথরঘাটার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এলাকার ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, মাছ ধরার শত শত ট্রলার সারিবদ্ধভাবে অলস পড়ে রয়েছে। সাধারণত জেলেরা সাগর থেকে ফিরে মাছ বিক্রি করেই প্রয়োজনীয় রসদ ও জ্বালানি নিয়ে পুনরায় সাগরে পাড়ি জমান। কিন্তু গত পাঁচ দিন ধরে উপজেলার তেলের ডিপো ও খুচরা দোকানগুলোতে ঘুরেও ডিজেল পাচ্ছেন না তারা। সাগরে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও কেবল তেলের অভাবে ঘাটে ট্রলার বেঁধে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন হাজার হাজার মৎস্যজীবী। অভিযোগ উঠেছে, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার খবরকে পুঁজি করে একদল অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। স্থানীয় ট্রলার ব্যবসায়ী মাসুম কোম্পানি জানান, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তেল মজুদ শুরু করেছে। জেলে জাকির বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দোকানদারগো গোডাউনে তেল আছে, কিন্তু হেরা আমাগো দেয় না। প্রতি লিটারে ২০ টাকা কইরা বেশি দিলে তহন আবার তেল পাওয়া যায়। আমাগো জিম্মি কইরা হেরা ব্যবসা করতাছে।’ তবে মজুদদারির অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় তেল ব্যবসায়ীরা সরবরাহ ঘাটতিকেই দায়ী করছেন। ফারুক ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী ফারুক হাওলাদার জানান, পাথরঘাটায় প্রতি সপ্তাহে যেখানে ২ থেকে আড়াই লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে, সেখানে বর্তমানে পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে বরাদ্দ আসছে মাত্র ৫ হাজার লিটার। সরকারি কোটাভিত্তিক এই নগণ্য সরবরাহের কারণেই চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, লাইসেন্সবিহীন কিছু খুচরা বিক্রেতা সুযোগ বুঝে তেল মজুদ করে থাকতে পারে। উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, পাথরঘাটায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১১ হাজার ৪১১ জন হলেও অনিবন্ধিতসহ এই সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। মৎস্য শিল্পের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবিকা এখন হুমকির মুখে। উপকূলীয় এই জনপদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড মৎস্য শিল্পকে সচল রাখতে এবং জেলেদের পরিবারে ঈদের হাসি নিশ্চিত করতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার লোভে সমুদ্রগামী ট্রলারগুলো আজ পঙ্গু হয়ে আছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঈদে জেলেদের ঘরে হাহাকার শুরু হবে। জ্বালানি সংকটের বিষয়টি নিয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার জানান, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। যারা অবৈধভাবে তেল মজুদ করে বাজার অস্থির করছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র : আমাদের সময়