সরকারের জবাবদিহিতা আদায়ে বিরোধীদলকে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, 1:07 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, 1:07 PM
সরকারের জবাবদিহিতা আদায়ে বিরোধীদলকে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
সরকারের জবাবদিহিতা আদায়ে বিরোধীদলকে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিউট আয়োজিত শরৎ উৎসব ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।
দেশ গঠনে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধীদলকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সরকারি দল ও বিরোধীদল—সবাইকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় বিরোধীদলের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা প্রয়োজন।
ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করা সম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধীদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি থাকলে সরকারের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে তদারকি করা যাবে।
সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করা এবং গঠনমূলক সমালোচনা করা বিরোধীদলের অন্যতম দায়িত্ব মন্তব্য করে কায়সার কামাল বলেন, রাজপথে আন্দোলনের পাশাপাশি সংসদের ভেতরে থেকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এসময় সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, সততা, নীতিনিষ্ঠা ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দায়িত্বশীল বিরোধীদল, জবাবদিহিমূলক সরকার এবং কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক সংস্কার যথেষ্ট নয়; আমলাতন্ত্র, সিভিল প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন। রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন করা সম্ভব হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা দূর না হলে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসবে না বলে মত দেন কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়া বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় করেও জনগণের কাছে কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছানো কঠিন। রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করতে হবে।
নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন ও নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য সরকার প্রণোদনা দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লালফিতার দৌরাত্ম্যে তা যথাযথভাবে পৌঁছায় না। নীতিনির্ধারকেরা উদ্যোগ নিলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ের দুর্বলতায় প্রত্যাশিত সুফল ব্যাহত হয়।
সরকারি সেবা ও সহায়তা জনগণের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।