নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ মার্চ, ২০২৬, 2:30 PM
সময়মতো বেতন-বোনাস পাচ্ছেন পোশাক শ্রমিকরা: বিজিএমইএ
নির্ধারিত সময়েই ফেব্রুয়ারির বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করছেন তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা। মার্চ মাসের অর্ধেক বেতন দেয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে কমপ্লায়েন্স থাকা কারখানাগুলো। তবে প্রণোদনার অর্থছাড়ে কিছু ব্যাংক গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর ঋণ-প্রণোদনা কার্যক্রমের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। বছরের পর বছর চলা জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি মার্কিন শুল্ক চাপ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে চলতি অর্থবছরের প্রতি মাসেই জুলাই মাস ছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের রফতানি আয় কমেছে। এমন বাস্তবতায় নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে আটকে থাকা রফতানি প্রণোদনার অর্থছাড়ের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারির বেতন, ঈদ বোনাস ও মার্চ মাসের অর্ধেক বেতনের অতিরিক্ত চাপ থেকে রেহাই দিতে এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সহজ শর্তে ঋণের সুযোগও দেয়া হয়েছে। বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, চলতি বছর বড় কোনো সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আমরা বেতন ও বোনাসসহ অর্ধমাসের বেতনও সুষ্ঠুভাবে দিতে পারব এবং ফ্যাক্টরিগুলো সুন্দরভাবে চলবে। বিজিএমইএর পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী যোগ করেন, আমরা বোর্ড ও সভাপতিদের সঙ্গে সর্বাত্মক মনিটরিং করছি যেন কোনো ফ্যাক্টরিতে বেতন ও বোনাস দেয়ার সমস্যা না হয়। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, মার্চের প্রথম সপ্তাহেই ফেব্রুয়ারির বেতন দেয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১২ তারিখের মধ্যে ঈদের বোনাসও দেয়া হবে। চলতি মাসের অর্ধেক বেতনও দু-একদিনের মধ্যে কমপ্লায়েন্স কারখানাগুলো দিতে শুরু করবে। তবে প্রণোদনার অর্থছাড়ে ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতার অভিযোগ থাকছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল ও পোশাক প্রস্তুতকারক এন জেড টেক্স গ্রুপের কর্ণধার ও বিটিএমএর সহ-সভাপতি সালেউদ জামান খান বলেন, প্রণোদনার টাকা অনেক আটকা আছে। যদি এই ফান্ডগুলো পাওয়া যায়, তাহলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তিতে বাঁচতে পারবেন। বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান আরও বলেন, কিছু ব্যাংকের অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়। তাদের কারণে এক মাসের বেতন পরিশোধে ঝামেলা হচ্ছে। শ্রমিক নেতারা বলছেন, ন্যায্য বেতন ও বোনাস না পেয়ে কারো ঈদ আনন্দ ব্যাহত হবে না। ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন জানান, মোটামুটি বেশিরভাগ ফ্যাক্টরি এরমধ্যেই বেতন দিয়েছেন, কিছু ফ্যাক্টরি বোনাসও দিয়েছেন। মার্চ মাসের অর্ধেক বেতনও আমরা দাবি করেছি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রণোদনার অর্থছাড় ব্যাংকগুলো কীভাবে দিচ্ছে তা দেখভালের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ক্যাশ ইনজেকশন দেয়া হবে নাকি অন্য কোনো সুযোগের মাধ্যমে এই অর্থ ছাড় নিশ্চিত করা হবে, সেটা বাংলাদেশ ব্যাংককে বিবেচনা করতে হবে। চলতি অর্থবছরে সরকার তৈরি পোশাক খাতে তিন ধাপে আড়াই হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে।