আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ মে, ২০২৬, 11:04 AM
বিশ্ববাজারে হঠাৎ সোনার দামে বড় পতন, নেপথ্যে যে কারণ
বিশ্ববাজারে হঠাৎ বড় পতনের মুখে পড়েছে সোনার দাম। মূলত মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী ডলারের কারণে বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে। সোনার পাশাপাশি রুপাসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও বড় পতন দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ২ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪০ দশমিক ০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ৫ মে’র পর সর্বনিম্ন। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত সোনার দাম কমেছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৫৬ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বা মুনাফা প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ধরে রাখার প্রবণতা কমেছে। একই সঙ্গে ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ডলার-মূল্যের সোনা কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
স্টোনএক্সের বিশ্লেষক রোনা ও’কনেল বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত এবং এই সপ্তাহে প্রকাশিত এপ্রিলের পিপিআই ও সিপিআই তথ্য মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর ফলে বন্ডের ইল্ড ও ডলারের দাম বেড়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এই সপ্তাহে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। জ্বালানির এই উচ্চমূল্য উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ রাখতে বাধ্য হতে পারে, যা সোনার আকর্ষণ আরও কমিয়ে দিচ্ছে।
রোনা ও’কনেল আরও বলেন, উপসাগরীয় যুদ্ধ নিয়ে বাজার অনেক দিন ধরেই সতর্ক ছিল। এর মধ্যে ভারতে আমদানি শুল্ক সংক্রান্ত ধারাবাহিক খবর দুর্বল বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করেছে। আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির কারণে এই সপ্তাহে ভারতে সোনার দামে রেকর্ড পরিমাণ ছাড় দেখা গেছে। তবে স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে সোনার দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও স্বল্পমেয়াদে বাজারের দিকনির্দেশনা বোঝা কঠিন।
সোনার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৮ দশমিক ২৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৯১ দশমিক ৩৩ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪২২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমেছে। সূত্র-রয়টার্স