ঢাকা ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক এনসিপির, সন্ধ্যায় মিছিল সরকার বাধ্য হয়েই তেলের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নৌসদস্যের মৃত্যু জাতীয় গ্রিডে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদকে ‘বড় বরাদ্দ’ দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর: মাহদী আমিন স্বাস্থ্যখাতের ওপর সরকারের বড় সাফল্য নির্ভর করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম কম : রিজভী দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি : শিক্ষামন্ত্রী এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের বাবার মামলা সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাত সদস্যসহ নিহত ৯

সন্তান অপরাধ করলে এবার বাবা-মায়েরও জেল-জরিমানা হতে পারে ইংল্যান্ডে

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  11:10 AM

news image

সন্তান অপরাধে জড়িয়ে পড়লে এবার তার প্রভাব পড়তে পারে বাবা-মায়ের ওপরও। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সন্তানের অপরাধের ঘটনায় অভিভাবকদের আরও কঠোরভাবে জবাবদিহির আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর আওতায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা বন্ধ, জরিমানা এমনকি চরম পরিস্থিতিতে কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও থাকতে পারে।


যুক্তরাজ্যের কিশোর বিষয়ক বিচারমন্ত্রী জেক রিচার্ডস বলেছেন, সমাজকে নিরাপদ রাখতে বাবা-মায়েরা যেন নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন, তা নিশ্চিত করতে কিশোর বিচারব্যবস্থার উচিত আনুপাতিক ও পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত উপায়ে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা।


সরকার বাবা-মায়ের জন্য দেওয়া অভিভাবকত্বের নির্দেশনা আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করার পর তিনি এসব কথা বলেন। এসব নির্দেশনার আওতায় বাবা-মা বা অভিভাবকদের সন্তানের আচরণ মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা হতে পারে। এর মধ্যে পরামর্শমূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া, এমনকি আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার নির্দেশ থাকতে পারে।


নির্দেশনা না মানলে সর্বোচ্চ এক হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।


তবে জেক রিচার্ডস জানিয়েছেন, বাবা-মাকে কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি কেবল অত্যন্ত চরম পরিস্থিতিতে বিবেচনা করা হবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারক। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোকে তিনি পুরস্কার ও শাস্তি, দুইয়ের সমন্বিত পদ্ধতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।


টাইমস পত্রিকাকে রিচার্ডস বলেন, অভিভাবকত্বের নির্দেশনার মাধ্যমে তরুণ অপরাধীদের আচরণ পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে, তাতে বাবা-মায়েরা আরও বেশি সম্পৃক্ত হবেন।


তিনি বলেন, এর মধ্যে কিছুটা শাস্তির ব্যবস্থাও থাকবে। কারাদণ্ড বা সরকারি ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থাও থাকতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন একজন বিচারক। বাবা-মায়েরা এই প্রক্রিয়ায় আরও বেশি সম্পৃক্ত থাকুন এবং এর সঙ্গে কিছু দায়িত্বও থাকুক, সেটিই তারা চান।


তবে সরকারের এই পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা করেছেন অপরাধবিষয়ক বিচারব্যবস্থার বিশেষজ্ঞদের অনেকে। তাদের মতে, অভিভাবকত্বের নির্দেশনা কার্যকর নয়। বরং এর মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলো আরও বেশি আর্থিক চাপে পড়তে পারে।


শিশুদের আচরণ নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিকি রাটার জুলাইয়ে বিবিসিকে বলেন, অভিভাবকত্বের নির্দেশনা কার্যকর নয়, এমন বিপুল পরিমাণ প্রমাণ রয়েছে। এ কারণেই এসব নির্দেশনার ব্যবহার কমতে দেখা যাচ্ছে।


তার মতে, দারিদ্র্যের সঙ্গে অনেক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বাবা-মাকে যত বেশি জরিমানা করা হবে, তাদের হাতে তত কম অর্থ থাকবে। পরিবারের হাতে অর্থ কমে গেলে তাদের আরও বেশি দারিদ্র্যের দিকে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।


এর আগে মে মাসে তৎকালীন বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি অভিভাবকত্বের নির্দেশনা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেসব বাবা-মা ও অভিভাবক ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সন্তানের আচরণ সংশোধনের প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে ব্যর্থ হন, তাদের জন্য বাস্তব পরিণতি থাকবে।


সে সময় বিবিসি ব্রেকফাস্টকে তিনি বলেছিলেন, কোনো বাবা-মা সমস্যায় পড়লে বিচারক হস্তক্ষেপ করতে পারবেন, যাতে তরুণ ব্যক্তি প্রয়োজনীয় সহায়তা পায় এবং বাবা-মা নিজেদের সর্বোচ্চটা করার চেষ্টা করেন।


তবে বাবা-মাকে কারাগারে পাঠানোর ক্ষমতা খুব, খুব কম ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।


বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আদালতকে তার বাবা-মায়ের জন্য অভিভাবকত্বের নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়। ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রেও আদালত এমন নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে, যদি আদালতের মনে হয় এতে ওই কিশোর বা কিশোরীর ভবিষ্যতে আরও অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সহায়তা হবে।


এই নির্দেশনার মেয়াদ ১২ মাসের বেশি হতে পারে না। সাজা নির্ধারণবিষয়ক পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, অভিভাবকত্বের নির্দেশনা অমান্য করাও একটি ফৌজদারি অপরাধ। এর জন্য সর্বোচ্চ এক হাজার পাউন্ড জরিমানা করা যেতে পারে।


সরকারি পরিসংখ্যানেও দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিভাবকত্বের নির্দেশনা দেওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০০৯-১০ সালে যেখানে এক হাজারের বেশি এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, ২০২২-২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৩টিতে।


কিশোর বিষয়ক বিচার ব্যবস্থা সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৮ সালে তৎকালীন নিউ লেবার সরকার ব্যবস্থা চালু করার পর থেকে অভিভাবকত্বের নির্দেশনা ব্যাপকভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও এর প্রভাব ও কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা খুবই সীমিত। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, সহায়তা কার্যক্রমে বাবা-মায়ের অংশগ্রহণ স্বেচ্ছামূলক হওয়া উচিত। সূত্র: গার্ডিয়ান

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম