ঢাকা ০৮ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
হরমুজ চুক্তি হলেই নৌ অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী রাশিয়া থেকে তেল কিনে বড় বিপাকে ভারত এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ সোমবার, জানবেন যেভাবে ‘দিল্লিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতার দায় ভারত এড়াতে পারে না’ স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের ঘোষণা বিশ্বকাপে ‘প্রাণনাশের হুমকি’ পেয়েছিলেন মেসি, ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য অতীতে একটি মহলকে সুবিধা দেয়ায় জ্বালানি ও বিদ্যুতের সমস্যা তৈরি হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর আবার গ্রেপ্তা‌র বাস-নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

রাশিয়া থেকে তেল কিনে বড় বিপাকে ভারত

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ আগস্ট, ২০২৬,  3:55 PM

news image

ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর চাপ বাড়াতে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়া এই বিলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এমনটাই জানিয়েছে এএফপি, রয়টার্স ও আল জাজিরা। 

‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। তবে কংগ্রেসের গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে সেপ্টেম্বরের শুরুর আগে সেখানে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।


বিলটি কার্যকর হলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় আমদানিকারক চীন ও ভারতসহ অন্তত পাঁচটি দেশ যেমন আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া যুক্তরাষ্ট্রের  ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্কের মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত গোপন সামুদ্রিক নেটওয়ার্কগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।


এই বিল ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীনের পর ভারতই রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ফলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর নতুন করে বড় ধরনের শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।


এর আগে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হলে এর সঙ্গে আরও সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


সিনেটে বিল পাসের আগে রিপাবলিকান সিনেটর জিম রিশ বলেন, এই উদ্যোগ রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভূমিকা রাখতে পারে। তার ভাষায়, এতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের প্রবাহে বড় ধরনের আঘাত আসবে।


বিল পাসের পর স্বাগত জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, রাশিয়ার ওপর শক্তিশালী মার্কিন চাপ ও নিষেধাজ্ঞাই যুদ্ধ বন্ধে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করবে। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের পাশাপাশি দেশটির জনগণের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।


বিলটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ছিলেন। গত ১১ জুলাই তাঁর মৃত্যুর পর বিলটি তার নামে নামকরণ করা হয়। মৃত্যুর এক দিন আগে গ্রাহাম দুই দলের একদল সিনেটরকে নিয়ে রুশ জ্বালানি পণ্যের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের অনুমোদন পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।


বিলটি পাসের পর গ্রাহামের আসনে দায়িত্ব পাওয়া তার বোন ডারলাইন গ্রাহাম নর্ডোন বলেন, এই বিল পুতিনকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করবে। 


ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিনও বিলটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি পুতিনের প্রতি স্পষ্ট ও দুই দলের সমর্থিত চাপের বার্তা দিয়েছে।


ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেইয়েনও বিলটি পাসের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমাতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।


তবে প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকজন সদস্য বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিক্স ও ডন বেয়ার বলেন, নতুন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে অতিরিক্তভাবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাদের মতে, শুক্রবার গৃহীত বিলের বর্তমান রূপ গ্রহণযোগ্য নয়।


অন্যদিকে ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাসও বিলটির বিরোধিতা করেছে। গত মাসে দেওয়া এক বিবৃতিতে দূতাবাস সতর্ক করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি সংকট ও গ্যাসের দাম বাড়ার পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সূত্র: এএফপি, রয়টার্স, আল জাজিরা, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস 


logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম