যে কারণে দল নির্বাচন থেকে নিজেকে দূরে রাখেন তামিম
ক্রীড়া প্রতিবেদক
০৯ আগস্ট, ২০২৬, 1:53 PM
ক্রীড়া প্রতিবেদক
০৯ আগস্ট, ২০২৬, 1:53 PM
যে কারণে দল নির্বাচন থেকে নিজেকে দূরে রাখেন তামিম
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে দেশের ক্রিকেটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিচ্ছেন তামিম ইকবাল। তবে জাতীয় দলের একাদশ কিংবা দল নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় নিজেকে জড়াতে চান না তিনি। এর পেছনে যুক্তিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।
এক সাক্ষাৎকারে তামিম জানান, বর্তমান দলের সঙ্গে বাইরে থাকা আরও ১০-১৫ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে একটি পুল তৈরি করা হবে। সেখান থেকেই বিশ্বকাপের দল গড়ে উঠবে। তবে ক্রিকেটারদের খেলানোর সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের ওপরই ছেড়ে দিতে চান তিনি।
তামিম বলেন, ‘যে দলটি খেলছে, তার সঙ্গে বাইরে থাকা ১০-১৫টি ছেলে যোগ হবে পুলে। এখান থেকে বিশ্বকাপ দল গড়া হবে। এর মধ্যে কোনো বিশেষ প্রতিভা পাওয়া গেলে আলাদা কথা। আমরা ব্যাট বা বল করব না। আমরা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দেব, খেলাটা ক্রিকেটারদের খেলতে হবে।’
দল নির্বাচন থেকে নিজেকে দূরে রাখার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন বিসিবি সভাপতি। তার মতে, সভাপতি সরাসরি একাদশ কিংবা নির্বাচনের সিদ্ধান্তে যুক্ত হলে ব্যর্থতার দায়ও শেষ পর্যন্ত তার ওপর এসে পড়বে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির জায়গাটিও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
তামিম বলেন, ‘আমি দল নির্বাচনে সম্পৃক্ত হই না। কোন ১১ জন খেলবে, সেটা আমার কাজ না। টিম ম্যানেজমেন্ট আর সিলেকশন প্যানেল আছে, তারা দেখবে। আমি হস্তক্ষেপ করলে আর দল ফেল করলে, তখন তারা বলবে সিদ্ধান্ত আপনার। ব্যর্থতার ভাগীদারও করা হবে আমাকে। আমি প্রতিটি সিদ্ধান্তে জড়ালে কাউকে জবাবদিহিতায় রাখা সম্ভব হবে না।’
বিশ্বকাপের আগে তাই দল নির্বাচন কিংবা একাদশ সাজানোর বদলে ক্রিকেটারদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাকেই নিজের দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন তামিম। তার পরিকল্পনায়, নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট ক্রিকেটার বাছাই ও একাদশ নির্ধারণ করবে, আর বোর্ডের কাজ হবে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো ও সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।
এদিকে পূর্বাচল স্টেডিয়াম নিয়েও বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তার মতে, বর্তমানে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণে ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বিসিবির নিজস্ব তহবিল থেকে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা কঠিন হওয়ায় এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন তিনি।
তামিম বলেন, ‘২০৩১ সালের বিশ্বকাপের বিডিং করার সময় পূর্বাচল স্টেডিয়ামে দেখানো হয়েছিল। একটি স্টেডিয়াম করতে এখন ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা লেগে যাবে। আমরা ওই পরিমাণ টাকা বিসিবির ফান্ড থেকে ব্যয় করলে প্রতিষ্ঠান চলবে না। আমি আশা করি, সরকার এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। আমরা আলোচনা শুরু করেছি। এই সরকার যেভাবে স্পোর্টসকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তাতে আমি নিশ্চিত বিশ্বকাপের স্বার্থে স্টেডিয়ামটা করবে।’