ঢাকা ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
তরুণ সমাজকে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ‘পাওয়ার হাউসে’ গতি ফেরাতে প্রশাসনে আসছে বড় পদোন্নতি রাজধানীতে ট্রাকচাপায় ২ অটোরিকশাচালক নিহত এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা ও ফল ঘোষণার তারিখ জানা গেল স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়লো ৫৪৮২ আজ টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না দেশের যেসব এলাকায় মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী এইচএসসির সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার আবেদন শুরু আজ, যেভাবে করবেন ৩৮ বছরে পা দিলেন ভারতের ব্যাটিং সেনসেশন কোহলি, জন্মদিনে দেখে নিন তার বিরল কিছু কীর্তি

মার্কিন নির্বাচনের পর বিশ্ববাজারে স্বস্তি, কমলো ডলারের দাম

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৫ নভেম্বর, ২০২৬,  11:09 AM

news image

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় ব্যবধানে জয়ের পর বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমার প্রত্যাশায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দরপতন হয়েছে। বিপরীতে ইউরো, ইয়েন, পাউন্ডসহ বিভিন্ন মুদ্রার দাম বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্বের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটতে শুরু করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।


যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এতে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধ সৃষ্টির আশঙ্কা কমেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড এবং আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে। ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশল বিভাগের প্রধান রে অ্যাট্রিলের মতে, নির্বাচনের ফলাফলে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ কমে আসতে পারে।


একটি পডকাস্টে অ্যাট্রিল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে বন্ডের দামের ওঠানামার সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফলের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে ডলারের বাজারেও। ফলে মার্কিন মুদ্রাটির দর দুর্বল হয়েছে।


বিশ্বের ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান নির্দেশক ডলার সূচক বৃহস্পতিবার ০.০৬ শতাংশ কমে ১০১.৪১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এর আগের কার্যদিবসেও সূচকটির পতন হয়েছিল ০.৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ইউরোর দর ০.১২ শতাংশ বেড়ে ১.১২৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জাপানি ইয়েনের মূল্যও ডলারের বিপরীতে ০.০৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৫৮.২৫ ইয়েন।


তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলেও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে ফেডের পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার অন্তত ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮১.২ শতাংশে পৌঁছেছে। আগের কার্যদিবসে এ সম্ভাবনা ছিল ৭৭.৪ শতাংশ।


এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির চিত্রও বাজারের আলোচনায় এসেছে। এডিপির প্রকাশিত জাতীয় কর্মসংস্থান প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরে দেশটির বেসরকারি খাতে নতুন করে ৮৬ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। অথচ রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদেরা এ সংখ্যা ৬৯ হাজার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।


যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার পরিস্থিতি নিয়ে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ। শুক্রবার দেশটির সরকারি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্য দিয়ে এ সপ্তাহের তথ্য প্রকাশ শেষ হবে।


অন্যদিকে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্তের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে পাউন্ডের দামও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার মুদ্রাটির মূল্য ০.৩৮ শতাংশ বেড়ে ১.৩৪৬২ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে একপর্যায়ে পাউন্ডের দাম ১.৩৫০৩ ডলারে পৌঁছেছিল। গত সাত সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ছিল মুদ্রাটির সর্বোচ্চ অবস্থান।


পাউন্ডের মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ষষ্ঠ দিনে গড়ানোর পথে ছিল। এর আগে গত ৬ জুলাই শেষ হওয়া টানা আট দিনের উত্থান ছিল মুদ্রাটির সর্বশেষ দীর্ঘ ঊর্ধ্বগতির নজির।


বিশ্লেষকদের ধারণা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে আগামী বছর কয়েক দফা সুদের হার বাড়বে বলে বিনিয়োগকারীদের যে প্রত্যাশা রয়েছে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক অবস্থান নিতে পারে।


জাপানের মুদ্রাবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের পর ইয়েনের দাম বেড়েছে। কার্যবিবরণীতে ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে জাপানের মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ার প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে।


ওই বৈঠকে নীতিনির্ধারকেরা সুদের হার বাড়িয়ে ১.২৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছিলেন, যা ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রকাশিত কার্যবিবরণীতে একজন নীতিনির্ধারক আরও দ্রুত সুদের হার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মত দিয়েছেন।


এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রার দামও বেড়েছে। অস্ট্রেলীয় ডলারের মূল্য ০.০৯ শতাংশ বেড়ে ০.৭০১ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের ডলারের দাম ০.১২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.৫৬২৭ ডলারে। সূত্র: রয়টার্স।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম