ঢাকা ২৫ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস সেপ্টেম্বরে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি: আইনমন্ত্রী পেঁয়াজের দামে বড় লাফ স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী চেক ডিজঅনার মামলায় জামিনে থাকা অভিযুক্ত পৃথক মামলায় গ্রেফতার, আদালতে প্রেরণ বাংলাদেশের উত্থাপিত প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহীত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চার গাড়ির সংঘর্ষ, ২ শিক্ষার্থী নিহত স্ত্রী–সন্তানকে নিয়ে ফিরছিলেন এসআই, পিঠে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে লাগল ৪৩ সেলাই গ্যাস সংকটে অতিষ্ঠ ভোক্তা রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির ৪ জ্যেষ্ঠ নেতা

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ জুলাই, ২০২৬,  2:03 PM

news image

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাজধানীর পুরানা পল্টনে মজলিস কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকবে। তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন হলে বিষয়টি তারা বিবেচনা করবে।

বৈঠক শেষে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘১১ দলীয় ঐক্য ছিলো মূলত নির্বাচনী সমঝোতা। নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ায় এ ঐক্যের কার্যকারিতা বস্তুত শেষ হয়ে যায়। তবুও নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ১১ দলীয় কিছু কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নেয়। এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের যাবতীয় কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের জন্য প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়াস-প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

এর আগে, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জোটকে জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে কোনো সমাবেশের ব্যানার বা প্রচারণায় যেন দলের নাম কিংবা নেতাদের নাম ব্যবহার না করা হয়। পরে রংপুরের একটি সমাবেশে নাম ব্যবহার করা হলে আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে জোটের কোনো কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিসের নাম ব্যবহার করা হয়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, আজ সকালে জোট ত্যাগের বিষয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেন খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি। ফোনালাপে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলের একটা সমঝোতা হয়েছিল। আমরাও সেই সমঝোতায় ছিলাম। নির্বাচন-পরবর্তী ১১ দলের কিছু কর্মসূচিতেও আমাদের খানিকটা উপস্থিতি ছিল।

কিন্তু বেশ কয়েকদিন ধরে আমরা ১১ দলের কোনো কর্মসূচিতে থাকছি না। বর্তমানে সে সমঝোতা নেই, আমরা এটাকে এখন আর কন্টিনিউও করতে চাইছি না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ কিছু বিষয়ে ১১ দলের সঙ্গে আমাদেরও একমত আছে। তবে এখন সে বিষয়গুলো বাস্তবায়নে আমরা পৃথকভাবে কাজ করব। ভবিষ্যতে কোনো ঐক্যের প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

সম্প্রতি কওমি ঘরানার ইসলামি দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে কওমি ধারার কয়েকটি ইসলামি দলের নেতাদের বৈঠকের পর থেকেই ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।

ইতোমধ্যে খেলাফত আন্দোলন ঘোষণা দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য ত্যাগ করেছে। এবার খেলাফত মজলিসও সে পথেই হাঁটল। তবে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখনো জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই ঐক্যে বহাল আছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম