মাতৃগর্ভে শিশুর ফুসফুসে টিউমার ছোট করলেন চীনের চিকিৎসকেরা
০৭ অক্টোবর, ২০২৬, 11:06 AM
NL24 News
০৭ অক্টোবর, ২০২৬, 11:06 AM
মাতৃগর্ভে শিশুর ফুসফুসে টিউমার ছোট করলেন চীনের চিকিৎসকেরা
মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর ফুসফুসে প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটারের টিউমার হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে চাপ দিচ্ছিল। চীনের চিকিৎসকেরা সূচের মাধ্যমে তাপ প্রয়োগ করে সেটি ছোট করেছেন। পরে জন্ম নেওয়া শিশুটি চার মাস বয়সেও উপসর্গমুক্ত ছিল।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, শেনজেন বাওআন নারী ও শিশু হাসপাতাল এবং চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের দল চিকিৎসাটি করেছে। ঘটনাটি ২০ আগস্ট ‘আলট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনিকোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।
শিশুটির ছিল কনজেনিটাল পালমোনারি এয়ারওয়ে ম্যালফরমেশন বা সিপিএএম। এতে গর্ভাবস্থায় ফুসফুসে অস্বাভাবিক টিস্যু তৈরি হয়। সাধারণত প্রাণঘাতী না হলেও দ্রুত বাড়লে বিপদ ঘটতে পারে।
গর্ভাবস্থার ২২ সপ্তাহে সমস্যাটি ধরা পড়ে। অস্বাভাবিক টিস্যু শিশুর বুকের ডান পাশের বড় অংশ দখল করেছিল। পেটেও বিপজ্জনকভাবে তরল জমেছিল।
বড় তরলভর্তি সিস্টে কখনো নল দিয়ে তরল বের করা যায়। কিছু জটিল ক্ষেত্রে গর্ভস্থ শিশুর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সিস্টগুলো ছিল ছোট। চিকিৎসার লক্ষ্য করার মতো কেন্দ্রীয় রক্তনালিও ছিল না।
তাই চিকিৎসকেরা বেছে নেন ‘মাইক্রোওয়েভ অ্যাবলেশন’। এতে তাপ দিয়ে অস্বাভাবিক টিস্যু ধ্বংস করা হয়।
আলট্রাসাউন্ডে সরাসরি দেখে মায়ের পেট ও জরায়ুর ভেতর দিয়ে সরু সূচ শিশুর টিউমারে পৌঁছানো হয়। এরপর প্রায় দুই মিনিট মাইক্রোওয়েভ শক্তি দিয়ে তাপ প্রয়োগ করা হয়। সুস্থ অঙ্গের ক্ষতি এড়াতে পর্যবেক্ষণ চলছিল।
তিন দিন পর টিউমার অনেকটা ছোট হয়। পেটের তরলও সরে যায়। ৩৭ সপ্তাহে সিজারে জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল প্রায় ২ দশমিক ৯ কেজি। চার মাসেও আর অস্ত্রোপচার লাগেনি।
প্রতি ২৫ থেকে ৩৫ হাজার গর্ভধারণে আনুমানিক একটিতে সিপিএএম হয়। চিকিৎসকেরা বলেছেন, একটি ঘটনা দিয়ে পদ্ধতির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায় না। নিয়মিত চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন।