ভারতে 'তেলাপোকা'র পর এবার 'কাঁকড়া' আন্দোলন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ জুলাই, ২০২৬, 10:59 AM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ জুলাই, ২০২৬, 10:59 AM
ভারতে 'তেলাপোকা'র পর এবার 'কাঁকড়া' আন্দোলন
ভারতে ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নতুন একটি সংগঠন। ‘ই-২০ জনতা পার্টি’ নামের এই ব্যঙ্গাত্মক সংগঠনটি জ্বালানি নীতিতে স্বচ্ছতা, ভোক্তার পছন্দের স্বাধীনতা এবং শতভাগ বিশুদ্ধ পেট্রোল সরবরাহের দাবিতে সরব হয়েছে।
সম্প্রতি ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র পর এবার নিজেদের প্রতীক হিসেবে ‘কাঁকড়া’ বেছে নিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাঁকড়ার মতোই চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে এই আন্দোলন। গত ২৬ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক বার্তায় সংগঠনটি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্য, তারা ইথানল ব্যবহারের বিরোধী নয়। তবে জনগণের সামনে জ্বালানির প্রকৃত উপাদান, ইথানলের পরিমাণ এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের জন্য শতভাগ বিশুদ্ধ পেট্রলের বিকল্পও চালু রাখতে হবে।
ই-২০ জনতা পার্টি আরও দাবি করেছে, ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির কারণে মাইলেজ, ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা, দূষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে স্বাধীন গবেষণার ব্যবস্থা করতে হবে। জ্বালানির সুবিধা-অসুবিধা ও প্রকৃত খরচ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
রবিবার ভোরে সংগঠনটির প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত বাড়তে থাকে তাদের জনপ্রিয়তা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চিত্র ও ভিডিওভিত্তিক একটি মাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়। অপরদিকে, আরেকটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অনুসারী প্রায় ৩৫ হাজারে পৌঁছেছে। তবে সংগঠনটির নেতৃত্বে কারা রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সংগঠনটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবটি খোলা হলেও এর নাম একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা বা মূল উদ্যোক্তাদের পরিচয়ও এখনো অজানা।
এদিকে, ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বহু গাড়িচালকের অভিযোগ, ই-২০ ব্যবহারের ফলে জ্বালানি দক্ষতা কমছে, ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
দুই সপ্তাহ আগে ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ই-২০ জ্বালানি ব্যবহারে গাড়ির মাইলেজ ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছে, পেট্রলে ইথানল মেশানো হলেও জ্বালানির দাম কমবে না।
তবে সরকারের অবস্থান ভিন্ন। তাদের দাবি, ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হয়েছে। সরকার আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই দেশটি ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ইথানল-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে এই নীতির প্রতি সরকারের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। বিষয়টি তারা সংসদে উত্থাপনেরও ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে, একই দাবিতে আগামী ৩১ জুলাই রাজধানী দিল্লিতে ‘গাড়ি মিছিল, গান্ধী মিছিল’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ৪ আগস্ট ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিরও ঘোষণা দিয়েছে দিল্লির ট্যাক্সি ও পর্যটন পরিবহন সংগঠন।
উল্লেখ্য, বিশুদ্ধ পেট্রলের পরিবর্তে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত ‘ই-২০’ জ্বালানি বাধ্যতামূলক করার পর থেকেই ভারতে এ নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশেষ করে, মাইলেজ কমে যাওয়া, পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতির আশঙ্কা এবং বিকল্প জ্বালানির অভাবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক ও আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে এই নীতি।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা