ঢাকা ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হলেন ৪০ কর্মকর্তা ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ ও পদ্মা ব্যারেজ করার প্রতিশ্রুতি গণতন্ত্রের উত্তরণে বাধা দিলে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে: সালাহউদ্দিন রাজশাহীতে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান ৭১ নিয়ে আগে মাফ চান, পরে ভোট চান: মির্জা ফখরুল আমরা আর কাউকেই টানাটানি করার সুযোগ দেব না: জামায়াত আমির সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে গণ্ডগোলের পাঁয়তারা চলছে: গভর্নর সাংবাদিকরা পর্যবেক্ষণ করলে নির্বাচনে স্বচ্ছতা থাকবে: সিইসি বঙ্গোপসাগরে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া দিতে যাচ্ছে ভারত বিএনপির বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী কায়দায় অপপ্রচার চলছে: মাহদী আমিন

বৈরুতে হাসান নাসরুল্লাহর জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫,  11:03 AM

news image

লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ’র প্রাক্তন নেতা হাসান নাসরাল্লাহ’র জানাজায় অংশ নিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাজধানী বৈরুতের একটি স্টেডিয়ামে রবিবার সমবেত হন। ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হবার প্রায় পাঁচ মাস পর নাসরাল্লাহ’র জানাজা অনুষ্ঠিত হল। নাসরাল্লাহ মারা যান যখন ইসরায়েলি বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানীর দক্ষিণ শহরতলীতে অবস্থিত হিজবুল্লাহ’র কার্যক্রম পরিচালনা কেন্দ্রে ৮০টিরও বেশি বোমা ফেলে। তার মৃত্যু ইরান-সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক দলের জন্য বড় মাপের ধাক্কা ছিল। নাসরাল্লাহ হিজবুল্লাহকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করেছিলেন। নাসরাল্লাহ’র জানাজায় ব্যাপক সংখ্যায় অংশগ্রহণের জন্য হিজবুল্লাহ তাদের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানায়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা দেখাতে চেয়েছিল ইসরায়েলের সাথে ১৪ মাসের যুদ্ধে তাদের অনেক সিনিয়র রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতার মৃত্যুসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও দলটি শক্তিশালী রয়ে গেছে।‌ ‘এই বিশাল জনসমাবেশ প্রমাণ করে যে, হিজবুল্লাহ এখনো লেবাননের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল’ ,বলছেন সংসদ সদস্য এবং দলের রাজনৈতিক শাখার সদস্য আলি ফায়াদ যিনি জানাজায় যোগ দেন। ‘এর মানে, হিজবুল্লাহ দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে যত কথা, সবই ভুল।’ সাহার আল-আতার, যিনি লেবাননের বেকা উপত্যকা থেকে জানাজার জন্য বৈরুতে এসেছেন, বলেন যে, নাসরাল্লাহ’র জানাজায় অংশ নিতে “আমরা এমনকি গুলি উপেক্ষা করে আসতাম।” নাসরাল্লাহ’র সাথে রবিবার তার ভাগ্নে এবং দলের নেতা হিসেবে উত্তরসূরি হাশেম সাফিয়েদ্দিন-এর জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়। নাসরাল্লাহ’র মৃত্যুর কয়েক দিন পরেই বৈরুতের শহরতলিতে ইসরায়েলি হামলায় সাফিয়েদ্দিন মারা গিয়েছিলেন। নাসরাল্লাহকে বৈরুতে কবর দেয়া হবে, কিন্তু সাফিয়েদ্দিনকে দক্ষিণ লেবাননে তার নিজ শহরে দাফন করা হবে। এর আগে দু’জনকেই সাময়িকভাবে গোপন স্থানে কবর দেয়া হয়েছিল।

 দুজনের কফিন যখন বিশাল জনতার মাঝ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন কফিন বহনকারী গাড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মীরা ফুল ছুঁড়ে দিচ্ছিল।  স্টেডিয়ামের বাইরে এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়ার সড়কের পাশ দিয়ে বিশাল টেলিভিশন স্ক্রিন স্থাপন করা হয়, যেখানে জানাজার ভিডিও’র শিরোনাম ছিল “আমরা চুক্তির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।” সিনিয়র হিজবুল্লাহ নেতা আলি দামুশ শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ৬৫ দেশ থেকে আনুমানিক ৮০০জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি জানাজায় অংশ নেবেন। তাছাড়া, সারা বিশ্ব থেকে হাজার হাজার লোক এই জানাজায় অংশ নেবেন। লেবাননের রাজধানীর প্রধান স্পোর্টস স্টেডিয়ামে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মাদ বাগের কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। লেবাননের সংসদের স্পিকার এবং প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, নাসরাল্লাহ ছিলেন হিজবুল্লাহ’র প্রতিষ্ঠাকারীদের একজন এবং তিনি ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে দলকে নেতৃত্ব দেন। এই অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত গ্রুপদের মাঝে তাঁর ব্যাপক প্রভাব ছিল। তথাকথিত “অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স” বা “প্রতিরোধ অক্ষ” নামে পরিচিত ইরাক, ইয়েমেন এবং ফিলিস্তিনে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোতে নাসরাল্লাহকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করা হতো। হিজবুল্লাহ ২০০৬ সালে মাসব্যাপী যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীকে আটকে দেবার পর নাসরাল্লাহ আরব বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। কিন্তু সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পক্ষে অংশগ্রহণ করার পর দলের ভাবমূর্তি এই অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম