আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ মার্চ, ২০২৬, 10:53 AM
লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে: ইরানের সেনাপ্রধান
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে হত্যার ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হাতামি লারিজানি হত্যার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইরান যে জবাব দেবে, তা হবে অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী।’ এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, লারিজানির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা ইতোমধ্যে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়া আইআরজিসিও স্পষ্ট জানিয়েছে, এই আক্রমণটি মূলত শহীদ ডক্টর আলী লারিজানি এবং তার সঙ্গীদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর মূল কাঠামো থেকে আলাদা হলেও এই শক্তিশালী বাহিনীটি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহারের সংকেত দিয়েছে। আলী লারিজানি ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাই তাকে হত্যার পর থেকেই ইরানের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ইরানের রাজপথে বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি তুলছেন। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো আঘাতের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা দ্বিধা করবে না এবং এই পাল্টা আক্রমণ কেবল শুরু মাত্র। এদিকে ইসরায়েলের ওপর ইরানের এই সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেল আবিবও বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি এবং আইআরজিসি-সম্পৃক্ত অভ্যন্তরীণ বাসিজ মিলিশিয়ার কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত হন। ইরান তাদের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে।