পোল্যান্ডের ক্রাকো শহরে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ নভেম্বর, ২০২৬, 11:58 AM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ নভেম্বর, ২০২৬, 11:58 AM
পোল্যান্ডের ক্রাকো শহরে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ৬
পোল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ক্রাকোর ব্যস্ততম এলাকায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। হামলাকারী উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন বলে ধারণা করছে দেশটির সরকার। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার কিছু আগে ক্রাকোর ঐতিহাসিক ও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ মেইন মার্কেট স্কয়ারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, হামলাকারী গাড়ি নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করেন।
নিহতদের মধ্যে চারজন নারী ও দুজন পুরুষ। তাদের মধ্যে তিনজন পোলিশ, একজন ব্রিটিশ নাগরিক। বাকি দুজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। আহত ১৬ জনের মধ্যে অস্ট্রিয়া, জার্মানি, পর্তুগাল, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের পাঁচজন নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন পুলিশ কর্মকর্তা। তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, হামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ। তারা সন্দেহভাজনের পরিবারের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২৫ বছর বয়সী ওই পোলিশ সন্দেহভাজনকে হামলার পর আটক করা হয়েছে। তিনি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মতো পোশাক ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন। হামলার সময় তার কাছে সামরিক মানের অস্ত্র ছিল। পরে তার ব্যবহৃত একটি গাড়ি থেকে আরও অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারচিন কিয়েরভিনস্কি বলেন, প্রাথমিকভাবে সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, হামলাকারী উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শে আকৃষ্ট ছিলেন এবং তার মধ্যে চরম জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।
প্রধানমন্ত্রী টাস্ক এ হামলাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পোল্যান্ডে এ ধরনের ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেনি। ক্রাকোতে মানুষের জীবনের ওপর এই নিষ্ঠুর হামলাকে সন্ত্রাসী হামলাই বলতে হবে।’
হামলার পর ক্রাকো শহরজুড়ে বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাজধানী ওয়ারশসহ দেশের অন্যান্য এলাকাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ক্রাকোতে শোক পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হামলাটি প্রায় তিন মিনিট স্থায়ী হয়। এ সময় হামলাকারীর গাড়ি থেকে গুলি চালানো হলে দোকানের কাচ ভেঙে যায় এবং একটি ট্রামেও গুলি লাগে। পরে পুলিশ গাড়িটি ধাওয়া করে। একপর্যায়ে গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হলে পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীর গোলাগুলি হয়।
এ ঘটনায় আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী টাস্ক। তারা হলেন সিনিয়র কনস্টেবল ইয়াকুব কুলিক ও আর্তুর মোরানস্কি। টাস্ক তাদের ‘প্রকৃত বীর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা অনেক মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। ২৪ বছর বয়সী পোলিশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সেজারি বলেন, প্রথমে তিনি বুঝতে পারেননি শব্দগুলো গুলির। পরে রাস্তায় চারজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি বুঝতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল থেকে আসা পর্যটক কেইটলিন শাসবি জানান, হোটেলের কক্ষ থেকে গুলির শব্দ শুনে তাকে ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়। এ সময় পুলিশ বাইরের রাস্তা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।
হামলার ঘটনায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অর্থহীন সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার পাশে রয়েছে যুক্তরাজ্য।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাসও হামলাটিকে ভয়াবহ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর প্রভাব পোল্যান্ডের বাইরেও অনুভূত হবে। এদিকে হামলার পর ওই এলাকায় অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর।