ঢাকা ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছরে নিশ্চিহ্ন ৩০০ পরিবার দুর্নীতির কারণে অনেক সমবায় সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে: রাষ্ট্রপতি সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে কাজে ফিরেছেন পোশাক শ্রমিকরা ই-সিগারেট-সোনাসহ শাহজালালে দুই দিনে আটক ৩২ লাখ টাকার পণ্য বিচার বিভাগের বেশি ক্ষতি করেছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি: আইনমন্ত্রী নেতানিয়াহু নয়, ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকোট নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে পরীমণিকে লিগ্যাল নোটিশ পোল্যান্ডের ক্রাকো শহরে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ৬ সৌদির সড়কে প্রাণ হারানো ৭ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গে‌ল

সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছরে নিশ্চিহ্ন ৩০০ পরিবার

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ নভেম্বর, ২০২৬,  1:49 PM

news image

‎সড়ক দুর্ঘটনায় গত ছয় বছর ১০ মাসে প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র তুলে ধরেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।


‎আজ ‎রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় সংস্থাটি। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।


‎‎‎প্রতিবেদন অনুযায়ী, অটোরিকশা দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনা সবচেয়ে বেশি। ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এ ধরনের ৫২৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৭২৮ জন। এর মধ্যে একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ২১১টি, তিনজন ১১৮টি, চারজন ৯২টি, পাঁচজন ৫৩টি, ছয়জন ৩৮টি এবং সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনা ১৩টি।


‎‎মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৮৬টি। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭০৮ জনের। এর মধ্যে একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ৪৮টি, তিনজন ৪৬টি, চারজন ৩৯টি, পাঁচজন ২৮টি, ছয়জন ২০টি, ১১ জন চারটি এবং ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা একটি।


‎‎প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্য নিহত হওয়ার ১০৮টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫২ জন। এসব ঘটনায় একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ৩৪টি, তিনজন ৩১টি, চারজন ২৪টি এবং পাঁচজন ১৯টি।


‎অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্য নিহত হওয়ার ৪৫টি ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৬২ জনের। এর মধ্যে একই পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ১১টি, তিনজন ১৫টি, চারজন ৯টি, পাঁচজন সাতটি এবং আটজন নিহত হওয়ার ঘটনা তিনটি।


‎বাস দুর্ঘটনায় এক পরিবারের সদস্য নিহত হওয়ার ৩২টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮৫ জন। এর মধ্যে এক পরিবারের দুজন নিহত হওয়ার ঘটনা ১৭টি, তিনজন ৯টি এবং চারজন ছয়টি। এ ছাড়া পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার একটি ঘটনা রয়েছে।


‎‎মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়ও পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ১৯৩টি এবং বাবা-সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনা ১৫৯টি। এসব ঘটনায় যথাক্রমে ৩৮৬ ও ৩১৮ জন নিহত হয়েছেন।


‎‎রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে কাজে বা ভ্রমণে যাওয়ার প্রবণতা, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল, ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স এবং চালকদের অদক্ষতা এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া চালকদের বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানো, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।


‎‎দুর্ঘটনা কমাতে মোটরসাইকেল আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণ, গ্রামীণ সড়ক থেকে মহাসড়কে সরাসরি যানবাহন প্রবেশ বন্ধে নিরাপদ নকশা তৈরি এবং যানবাহন চলাচলে নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।


সড়ক নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম