ঢাকা মহানগরকে বাসযোগ্য মনে হয় না: মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ জুন, ২০২৬, 1:49 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ জুন, ২০২৬, 1:49 PM
ঢাকা মহানগরকে বাসযোগ্য মনে হয় না: মির্জা ফখরুল
ঢাকার বায়ু, পানি ও পরিবেশদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় রাজধানীকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। ইদানীং তার মনে হচ্ছে তিনি এ শহরে থাকবেন না। ঢাকা ছেড়ে তিনি দেশের অন্য এক শহরে গিয়ে বসবাস করবেন। শনিবার (৬ জুন) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তার মনের এ কথা জানান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা শহরে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও নগরবাসী কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাসযোগ্য নগর গড়তে কার্যকর পরিকল্পনা, জবাবদিহি ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ফখরুল বলেন, প্রকল্প নেওয়ার আগে বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এগোনো দরকার। মন্ত্রী বলেন, আজকাল আমার নিজেরই মনে হয় যে আমি ঢাকা শহরে থাকব না; আমি আমার দেশের অন্য শহরে গিয়ে থাকব। কারণটা হচ্ছে, এটা আর বাসযোগ্য মনে হয় না।
মির্জা ফখরুল বলেন, আপনি ঘর থেকে বের হলেই যে বাতাস গ্রহণ করেন, সেটাও দূষিত। আপনি যদি একটি সরকারি হাসপাতালে যান, সেখানে ঢোকাই যায় না। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। সেই অবস্থা থেকে যদি আমরা বের হতে না পারি, প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামনে এগিয়ে আনতে না পারি, তাহলে এতক্ষণ যে স্বপ্নের কথা বলা হলো, সেগুলো স্বপ্নই থেকে যাবে। কারণ আমরা কি সত্যিই সেই মুক্ত বাতাস নিতে পারব? মানুষ যাতে আরও দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে, সে জন্য বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করা এবং বাসযোগ্য শহর ও নগর গড়ে তোলার আন্দোলন প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীকে আলোড়িত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব। এলজিআরডি মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই হবে না।
যারা নীতিনির্ধারণ করছেন, ঢাকা শহর পরিচালনা করছেন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন স্থানীয় সরকারের একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন নগর নির্বাচিত মেয়র ও স্বশাসিত করপোরেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে আরও গভীর চিন্তা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকার পরিবেশ ও নদী দূষণের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, কলেজ জীবনে আমরা প্রায়ই বুড়িগঙ্গায় নৌকায় চড়ে ঘুরতে যেতাম। কিন্তু এখন সেই নদীর কাছেও যাওয়া যায় না।
এত দূষিত, এত দুর্গন্ধ। আমার কাছে মনে হয়, ঢাকা শহরের অনেক সমস্যার মূলেই বোধহয় এই বুড়িগঙ্গা। বুড়িগঙ্গার পানি আজ যে অবস্থায় আছে, শীতলক্ষ্যাও প্রায় একই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। তাহলে ঢাকা শহরের নাগরিকরা যাবে কোথায়? তিনি বলেন, চলমান উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি কাঠামোগত পরিবর্তনও প্রয়োজন। পরিকল্পনা সঠিকভাবে নিতে হবে এবং ‘প্রকল্প শেষ তো সব শেষ’, এমন পরিস্থিতি যেন না হয়। ঢাকা শহরের পানির অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘ঢাকা শহরের পানির অবস্থা খুবই ভয়াবহ। একটি বড় অংশের পানি পানযোগ্য নয়।
আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে। এটি ঢাকার জন্য একটি ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এত প্রকল্প হয়, কিন্তু বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করার কোনো কার্যকর প্রকল্প তৈরি হয় না। আমি চেষ্টা করব এ বিষয়ে আলোচনা করে আমরা বুড়িগঙ্গাকে ঠিক করতে পারি কি না, তুরাগকে ঠিক করতে পারি কি না— সেসব বিষয় দেখতে হবে।’