ঢাকা ২৫ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
অনলাইনে ধুতুরা বিক্রির দায়ে অ্যামাজন-সুইগি-বিগবাস্কেটের লাইসেন্স স্থগিত মানি এক্সচেঞ্জে ডলার বিক্রির সর্বোচ্চ দর ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৯২ ডলারে স্থিতিশীল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে সৌদি বাদশাহ সালমানের অভিনন্দন সকালে খালি পেটে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা গাভিকে নিয়ে স্বস্তির বার্তা দিল বার্সেলোনা শৈলকুপায় টিসিবি পণ্য নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হামলা, নিহত ১ ম্যাকাইয়ের পিচ নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ধুয়ে দিলেন ব্রড সারাদেশে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন

জি কে শামীমের ৫ বছর কারাদণ্ড, মা খালাস

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ মার্চ, ২০২৫,  11:58 AM

news image

ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে অবৈধ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দায়েরকৃত মামলায় পাঁচ বছর ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে, একই মামলায় খালাস পেয়েছেন তার মা আয়েশা আক্তার। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন এ তথ্য জানান। কারাদণ্ডের পাশাপাশি জি কে শামীমকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়। এই অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাস বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন বিচারক। এ ছাড়া, ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত এ ঠিকাদারের ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে, তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে তার মা আয়েশা আক্তারের অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগও প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দুদক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানানা, আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৭(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে সাজা দিয়েছেন। আমরা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। তারপরও আদালত তাকে এ অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, তা কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করা ছিল। ওইদিন জি কে শামীমের আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় জেরা করার আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন। মামলাটি রায় থেকে উত্তোলন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ধার্য করা হয়। এরপর তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি, সাফাই সাক্ষ্য এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২০ মার্চ আবার রায়ের তারিখ ধার্য করা হয়। এর আগে, ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর জি কে শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর আদালত এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। যার মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এজাহার থেকে জানা যায়, জি কে শামীম ২০১৮-২০১৯ করবর্ষ পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে আয়কর নথিতে ৪০ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ৭৪৪ টাকার তথ্য উল্লেখ করলেও মোট টাকার বৈধ উৎস পায়নি দুদক। এ ছাড়া তার বাসা থেকে উদ্ধার করা নগদ ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা ছাড়াও ৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বিদেশি মুদ্রা, শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের নামে ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার এফডিআর, মায়ের নামে আরও ৪৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার ব্যবসার অংশীদার এবং জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানির শেয়ার, গাড়ি ও এফডিআর বাবদ ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৭১৯ টাকার অস্থাবর সম্পদের বৈধ উৎস পায়নি দুদক।  অনুসন্ধানে শামীমের মায়েরও বৈধ আয়ের কোনো উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ মোট ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদক মামলাটি দায়ের করেন।


logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম