ঢাকা ২২ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বিদায় আবদুস সাদেক: অবমূল্যায়ন আর আক্ষেপের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে স্কুল-কলেজের কমিটিগুলোকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তা পেল না বাংলাদেশ কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেন আর নেই নজরুল বর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত, প্রজ্ঞাপন জারি মালয়েশিয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করেছিলেন জিয়াউল আহসান: চিফ প্রসিকিউটর ২৩ জুনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করার চেষ্টাকারীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে: র‌্যাব

ঘুষবাজের মহাগুরুরা সব সাধুবেশে, দিন গুনছে নিরাপদে ঘরে ঢোকার

#

কামরুজ্জামান মিল্টন

২১ জুন, ২০২৬,  2:34 PM

news image

“লম্বা মেয়াদে ঝড়ো আমের মত কুঁড়ানো সম্পদের গুপ্ত স্তুপ।
আয়কর বিবরনী আর গুপ্ত সম্পদের লোমহর্ষক হেরফের নানা কানাঘুষা” 

যেন দমকা বাতাস থামায় ঘুষবাজের মহাগুরুরা এখন সব সাধুবেশে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ-চোর আর সাধুর তফাৎটা তো বাটে (ধরা খাওয়ায়) চেনায়। আর ওই বিআরটিএ’র (বাংলাদেশ রোডস এন্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি) বলে কথা। 

প্রসঙ্গত সেই কথাটি-ওর “সর্বাঙ্গে ব্যাথা ,মলম দিবে কোথা”কথাটি বেশ আগের বিআরটিএ’র এক কর্মকর্তার। একটি অনিয়মের প্রতিবেদন সংক্রান্তে। আর সেই থেকেই অনিয়মের নিরাপদ আস্তানারুপী প্রতিষ্ঠানটির সদর থেকে কয়েকটি সার্কেল পর্যন্ত অবাধ নানা অনিয়মের খোঁজ নেয়া। শুরুতে এসবের তোয়াক্কা না করলেও সরকার বদলের এক-দুই মাস আগে ও পরে হঠাৎ টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। যেন দমকা বাতাস।

আর গতানুগতিক শাস্তিতে ঘুষবাজদের কেউে সাগর পাড়ে (কক্সবাজার,বরিশাল),আবার কেউ পাহাড়ের ঢালে (রাঙ্গামাটি,খাগড়াছড়ি) গিয়ে পড়ে। এর মধ্যে আসে সাংবাদিক নামধারী কিছু চাটুকারের কৌশলী বাগড়া। এতে হয়ে যায়-আপদমস্তক ঘুষের রাজ্যের সবাই ভাই ভাই। দেখাদেখি,খোঁজখবরের পাত্তা নাই।

ওই দমকা বাতাসও থেমে যায়। এ ফাঁকে চাকরির লম্বা মেয়াদে ঝড়ো আমের যথেচ্ছা অবৈধ টাকা কামিয়ে নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া অনেক ধুরন্ধর ও ঘুষবাজের মহাগুরু ঘাপটি মারে। যারা এখন নিরাপদে ঘরে ফেরার (অবসরে যাওয়া) দিন গুনছে। আর সম্প্রতি তাদের মধ্যেরই সব চেয়ে বেশী ধুরন্ধর ও আলোচনা-সমালোচনার তোপে থাকা দুই-একজনের দীর্ঘমেয়াদী ঘুষবাজির ছোট-খাটো ফিরিস্তি নিয়েই কয়েক টুকরো বে-খবরের এটি।

ওই দুয়ের একজন- বিআরটিএ’র সেই “সদরে দরবেশ ও চিটাগাংয়ের শুদ্ধাচারের মহাগুরু” খ্যাত সেই শহিদুল ইসলাম ওরফে শহিদুল্লাহ। তার চলতি দায়িত্ব পরিচালক (ইঞ্জিঃ) হলেও তিনি ওই রাজ্যের (বিআরটিএ) সব অবৈধ সুযোগের আটঘাট অবাধে মাড়িয়ে কাড়ি কাড়ি সম্পদ গুছিয়ে এখানে বসেছেন।

অন্যজন-সহকারী পরিচালক (এডি) শেখ মোঃ ইমরান। এখনো কর্তব্যরত ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১’ এ। কিছু দিন আগে অভিযোগ উঠে লম্বা সময় ধরে বিআরটিএ’র দায়িত্বের সুযোগে তিনি নজর কাড়া সম্পদ গড়ে ঘাপটি মেরে পারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তবে তিনি একা নন। তার গৃহীনি স্ত্রী সাজিয়া ইয়াসমিনও মালিক প্রশ্ন ওঠা সম্পদের।

শেষে এসে এরই মধ্যে তিনি তারই উচ্ছিষ্টায় পালিত কতিপয় সাংবাদিক নামধারী দালালের কারসাজিতে গুপ্ত আখেরের গোঁমর ফাঁসের তোপেও পড়েন। আর এতে তার এ সহকারী পরিচালক অবদি আসার পথে কুড়িয়ে গুছিয়ে সামলে রাখা হতবাক করা সম্পদে কু-নজর পড়ে কু-চক্রের। যাতে ছড়ায় দুর্নীতির দুর্গন্ধ। তার চাকুরিরতে এ পর্যন্ত জ্ঞাতে,অজ্ঞাতে সম্পদের নমুনাটার টুকরো বে-খবর টুকু এর পরের টুকরো খবরে।

তবে এর সাথে দেখা যাক-বিআরটিএ’র বর্ণাঢ্য কর্মযঞ্জের ওই শুদ্ধাচারের মহাগুরু শহীদুল ইসলামের দরবেশী আদলে সিল মেকানিক্স থেকে পরিচালক পর্যন্ত এ লম্বা সময় ধরে ক্ষমতার বদৌলতের রকফেরের বে-খবরটা। তিনি ইকুরিয়ার সেই সিএনজি রিপ্লেসমেন্ট থেকে শুরু করে বিভাগীয় ডিডি’র হয়ে সার্কেলের উৎকোচ,বদলি,পদোন্নতির মহারথি ছাড়া বিভাগীয় পরিচালক হয়ে দরবেশের বেশে সার্কেলে ছড়িওয়ালা হয়ে কি পরিমান সম্পদের মালিক হতে পারেন ? এর জটিল হিসেব-নিকেসে রয়েছে নানা প্যাচ।

যা মেলাতে আয়কর,ভুমি অফিসের খতিয়ানের আগে নমুনা সমেত (মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া অসম্ভব পরিমান সম্পদ) বে-খবরটা এর পরের টুকরোয়। এসবের সারসংক্ষেপটা হলো-‘বিআরটিএ’ নামের এ প্রতিষ্ঠানটির বরাবরের অবাধ অনিয়ম আর টাকা কামানোর হরেক মেলায় সবচেয়ে ছোট থেকে সব চেয়ে বড়,সবার কাছেই যেন অনিয়মটাই নিয়ম আর টাকাই আসল। আর তাই এখানে চলে টাকার খেলা।

যাতে গতানুগতিক ভাবেই আসক্ত সেখানকার ঝাড়ুদার থেকে শীর্ষব্যক্তিও। যার নজীর খুঁজতে আয়কর ফাইল বা ভুমি অফিসের দ্বারস্থ’র আগে লম্বা সময়ের দুর্নীতির দুর্ঘন্ধটাই তো সামলানো ভার। আর বার বার সমালোচনার তোপ ডিঙ্গিয়ে সাধু সন্নাসীর বেশধারী শহিদুল ও ইমরানদের বাধা ছাড়া ঘুষের হাটের ইজারাদারি তো পুরনো সেই সাদাকালোর দিন থেকে। যেখানে অন্যায়-অনিয়মে মানুষ ছিল অচেতন। আর এখন ওই তোলার হাটের (বিআরটিএ) মোড়লদের ভাবখানা যেন ধোয়া তুলসি। আদৌ কি তাই ? পরের টুকরো খবরে ঘুষের হাটের মোড়ল গিরির বিস্ময়কর বেশাতির নমুনাটা দেখার সম্ভবানায় থাকলো।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম