হোটেলে মিলল পুলিশ কর্মকর্তার লাশ, পাশে রক্তাক্ত স্ত্রী ও সন্তান
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ আগস্ট, ২০২৬, 10:55 AM
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ আগস্ট, ২০২৬, 10:55 AM
হোটেলে মিলল পুলিশ কর্মকর্তার লাশ, পাশে রক্তাক্ত স্ত্রী ও সন্তান
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারে রিল্যাক্স জোন নামের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম (৩২) নামের পুলিশের এক এএসআইয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে (২৪) রক্তাক্ত অবস্থায় এবং তাদের ১০ মাস বয়সী মেয়ে ফাতিহা আক্তারকে অক্ষত উদ্ধার করা হয়। নিহত আমিনুল বড়তাকিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি রাঙ্গামাটি পুলিশ লেনে কর্মরত ছিলেন।
রিল্যাক্স জোন হোটেলের ম্যানেজার মোহাম্মদ সোহান জানিয়েছেন, আমিনুল ও তার স্ত্রী গত রবিবার দুপুর ২টার দিকে হোটেলে এসে ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কক্ষ পরিষ্কারের জন্য বারবার ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হচ্ছিলো না। একপর্যায়ে আমিনুলের স্ত্রী দরজা খোলার পর দেখা যায়, তার গলা কাটা ও রক্তাক্ত। এ সময় আমিনুলকে ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখা যায়। তাদের মেয়ে বিছানায় ছিলও। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরী জানান, হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে খবর পেয়ে কক্ষের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আমিনুলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমিনুলের স্ত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মেয়েকে আপাতত স্বজনদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আমিনুলের স্ত্রী তাহমিনা সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর থেকে আমিনুল তার স্ত্রীকে দীর্ঘদিন তার বাবার বাড়ি রেখেছিলেন। গত বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে যোগাযোগেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিলো। গত রবিবার সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করার কথা বলে স্ত্রীকে বড়তাকিয়ায় ডেকে নিয়েছিলেন আমিনুল। এরপর তারা গিয়ে হোটেলে উঠেন।
মিরসরাই থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাটি বিস্তারিত তদন্ত করে দেখছে। কী কারণে তারা একই এলাকায় নিজেদের বাড়ি রেখে হোটেলে উঠেছিলেন সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’