অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া উপায়, যেসব বিষয়ে সতর্কতা জরুরি
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ অক্টোবর, ২০২৬, 12:03 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ অক্টোবর, ২০২৬, 12:03 PM
অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া উপায়, যেসব বিষয়ে সতর্কতা জরুরি
অ্যালার্জি হলো এমন একটি অবস্থা, যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা এমন কিছু পদার্থের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা সবার শরীরে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না।
হেলথলাইন-এর তথ্য অনুযায়ী, পরাগরেণু, ধুলার মাইট, পোষা প্রাণীর শরীর থেকে ঝরে পড়া মৃত কোষ ও লোম, ছত্রাকের স্পোর, পোকামাকড়ের কামড় বা হুল, নির্দিষ্ট কিছু খাবার ও ওষুধ অ্যালার্জির সাধারণ কারণ।
অ্যালার্জির পরিচিত কারণগুলো এড়িয়ে চলা সম্ভব হলে, সেটিই অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে সহজ প্রাকৃতিক উপায়।
নাকের ভেতর স্যালাইন দ্রবণ দিয়ে পরিষ্কার করলে শ্লেষ্মা, অ্যালার্জেন, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য উত্তেজক পদার্থ নাকের পথ এবং সাইনাস থেকে বের করে দিতে সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়া উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বায়ুকণা শোষণকারী (হেপা বা HEPA) ফিল্টার ঘরের বাতাস থেকে পরাগরেণু, ধুলা ও পোষা প্রাণীর শরীর থেকে ঝরে পড়া মৃত কোষ আটকে রেখে বায়ুবাহিত অ্যালার্জেনের পরিমাণ কমাতে পারে।
আনারস ও পেঁপেতে পাওয়া যায় ব্রোমেলেইন নামের একটি পরিপাককারী এনজাইম। এটি প্রদাহ ও ফোলাভাব কমিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা উপশম করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে অ্যালার্জির চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রোবায়োটিক, রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং খাবারজনিত অ্যালার্জি উপশমে সাহায্য করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে এর উপকারিতা এখনো নিশ্চিত নয়।
কোয়ারসেটিন হলো বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ খাবারে পাওয়া একটি যৌগ, যা প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যপণ্যে বহুল ব্যবহৃত হয়। এটি হিস্টামিন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে রেখে অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ব্রকলি, ফুলকপি, গ্রিন টি ও বিভিন্ন লেবুজাতীয় ফলে কোয়ারসেটিন পাওয়া যায়।
১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ভিটামিন সি গ্রহণের প্রস্তাবিত পরিমাণ পুরুষদের ক্ষেত্রে ৯০ মিলিগ্রাম এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৭৫ মিলিগ্রাম।
পেপারমিন্ট (Mentha piperita) থেকে মেনথল, মেনথোন ও মিথাইল অ্যাসিটেটের মতো উপাদান পাওয়া যায়। ইউক্যালিপটাস তেলও এর জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্যের কারণে কখনো কখনো ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে যেসব বাড়িতে ধুলার মাইটের সমস্যা রয়েছে। তবে ধুলার মাইটজনিত অ্যালার্জি প্রতিরোধে ইউক্যালিপটাস তেলের কার্যকারিতার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
তীব্র অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ায় চিকিৎসা জরুরি
অ্যানাফাইল্যাক্সিস একটি প্রাণঘাতী অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া, যার চিকিৎসায় কোনোভাবেই ঘরোয়া প্রতিকারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
এর উপসর্গের মধ্যে রয়েছে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা, রক্তচাপের পরিবর্তন, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এবং বমি হওয়া। অ্যানাফাইল্যাক্সিসের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।
নতুন কোনো এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহারের কথা বিবেচনা করলে, তা নিয়মিত ব্যবহৃত অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে অক্ষত ত্বকের ছোট একটি অংশে, যেমন হাতের আগায় বা বাহুতে, পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া না হলেও তেলটি সবার জন্য নিরাপদ, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। পরবর্তী সময়েও এটি অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
এসেনশিয়াল অয়েল কখনোই চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।