অবশেষে বাবার হেফাজতে আশ্রয় পেল ২ মেয়ে
নিজস্ব প্রতিনিধি
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, 11:08 AM
নিজস্ব প্রতিনিধি
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, 11:08 AM
অবশেষে বাবার হেফাজতে আশ্রয় পেল ২ মেয়ে
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে দেড় ও পাঁচ বছর বয়সী দুই কন্যাশিশুকে সড়কের পাশে রেখে চলে যাওয়ার ঘটনার অবসান হয়েছে। অবশেষে শিশু দুটি তাদের বাবা নূর মোহাম্মদ নাসির আলমের হেফাজতে আশ্রয় পেয়েছে। বর্তমানে তারা বাবার কাছেই রয়েছে।
সোমবার শিশু দুটির বাবা নাসির আলম জানান, রবিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কুমিল্লা থেকে এসে তিনি ভাবির কাছ থেকে দুই মেয়েকে নিজের হেফাজতে নেন। বর্তমানে মেয়েরা তার কাছে ভালো আছে।
নাসির আলম বলেন, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার সাবেক স্ত্রী জেসমিনের সঙ্গে কথা হয়েছিল। মায়ের অসুস্থতার কারণে তিনি জেসমিনকে শুক্রবার পর্যন্ত মেয়েদের নিজের কাছে রাখতে অনুরোধ করেছিলেন। শুক্রবার গিয়ে মেয়েদের নিয়ে আসবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার কথা না শুনে শিশু দুটিকে সড়কের পাশে রেখে চলে যান জেসমিন। খবর পেয়ে কুমিল্লা থেকে এসে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ভাবির কাছ থেকে মেয়েদের নিয়ে যান তিনি।
এর আগে রবিবার দুপুরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের দক্ষিণ বাজার এলাকায় রোজ গার্ডেন মডেল স্কুলসংলগ্ন সড়কে শিশু দুটিকে একা দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিশু দুটি হলো দেড় বছর বয়সী রোজা ও তার পাঁচ বছর বয়সী বড় বোন ইসরাত। তারা উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের নাসির আলম ও জেসমিন দম্পতির মেয়ে। প্রায় ১২ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছিল।
স্থানীয়দের কাছে পাঁচ বছর বয়সী ইসরাত জানায়, তাদের মা চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে সেখানে নিয়ে আসেন। পরে তাদের রেখে কোথাও চলে যান, আর ফিরে আসেননি।
শিশু দুটির পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের খুঁজে পেতে স্থানীয় কয়েকজন তাদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। সেসব ছবি ও ভিডিও দেখে শিশু দুটির এক চাচি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশু দুটিকে তার হেফাজতে দেওয়া হয়।
শিশুদের চাচি জানান, তাদের বাবা নাসির আলম কুমিল্লা নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। আগে তারা কুমিল্লা শহরে বসবাস করতেন। প্রায় চার মাস আগে নাসির আলম ও জেসমিনের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। এরপর জেসমিন অন্যত্র বিয়ে করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের সামনেই শিশুদের চাচি মুঠোফোনে তাদের মা জেসমিনের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় জেসমিন জানান, তিনি ইচ্ছা করেই শিশু দুটিকে সেখানে রেখে গেছেন এবং তাদের আর ফিরিয়ে নেবেন না।