NL24 News
০৪ ডিসেম্বর, ২০২৪, 4:41 PM
২ মাসেও সংস্কার হয়নি সড়কটি
তাওহিদুজ্জামান রোমান, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি: শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার শেরপুর-নন্নী-নাকুগাঁও স্থলবন্দর সংযোগ সড়কের বৃহৎ অংশ ধসে যাওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। বিগত ৪ অক্টোবরের ভয়াবহ বন্যায় শেরপুর-নন্নী-হাতীপাগাড় (জেড-৪৬০৩) সড়কের ৮ কিলোমিটার এ হাজী নূরুল হক নন্নী পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজ সংলগ্ন দুটি স্থানে প্রায় ৭৫ মিটার সড়ক পুরোপুরি ধসে পড়ে। এর পাশাপাশি আরও প্রায় ৫০০ মিটার অংশ আংশিক ধসে অর্ধেক প্রস্থে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ধসের কারণে বড় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে সিএনজি, অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল ও সাইকেল চালকরা পার্শ্ববর্তী নদীর পাড়ের কাঁচা রাস্তা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করছেন। স্থানীয়দের উদ্যোগে সড়কটির ধসে পড়া অংশে পায়ে হেঁটে পারাপারের জন্য বাঁশ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো স্থাপন করা হয়েছে।
নাকুগাঁও স্থলবন্দর বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। সড়কটি বন্দরের পণ্য পরিবহন, কৃষিপণ্যের সরবরাহ, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। কিন্তু সড়কটির ধসে পড়ার পর এসব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বিকল্প পথ ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের পরিবহন খরচ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হলে এই অঞ্চলের অর্থনীতির উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে।
সড়ক ধসের কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাঁচা রাস্তা ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না, এবং অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের যাতায়াতে অতিরিক্ত খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এছাড়া, রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। বিশেষ করে রাতে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, যার ফলে অনেক রোগীর জীবনহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক মো. সোলাইমান হোসেন বলেন, “আমরা কৃষক। আমন ধান কেটেছি, শাকসবজি আবাদ করেছি, এবং বাড়িতে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন করি। তবে সড়কটি ধসে যাওয়ার ফলে এখন আমাদের ধান, শাকসবজি ও গবাদি পশু বাজারে নিয়ে যেতে দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হচ্ছে। খুব মুসিবতে আছি।”
অটোরিকশাচালক কুদরত আলী বলেন, “ভাঙা সড়কের কারণে আমাদের আয় অনেক কমে গেছে। বিকল্প পথে যাত্রী পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ এবং সময় বেশি লাগায় যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে। আমাদের সংসার চালানো এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “বন্যার পর আমরা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করেছি। তবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা সাঁকো পার হতে ভয় পায়, এবং অনেক অভিভাবক দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে।”
শেরপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাকিরুল ইসলাম দৈনিক মুক্ত খবর-কে জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং-এর একটি পরিদর্শন দল উক্ত স্থানে পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শন শেষে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে হাইড্রো মরফোলজিক্যাল স্ট্যাডি সম্পন্ন করে স্ট্রাকচার নির্মাণ এবং স্বল্পমেয়াদী সমাধান হিসেবে ২টি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বেইলি সেতু স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পি.এম.পি. (মেজর) সড়কের আওতায় বিশেষ কাজের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছিল। তবে অনুমোদনে বিলম্বের কারণে ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং-এর পরিদর্শন দলের সুপারিশ অনুযায়ী, বেইলি সেতু স্থাপন, মাটি ভরাট এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের প্রাক্কলন প্রক্রিয়া চলছে। টেন্ডার আহ্বান শেষে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে এবং দ্রুত সড়কটির মেরামত কাজ শুরু করা হবে।