
লাইফস্টাইল ডেস্ক
১২ আগস্ট, ২০২৫, 4:41 PM

হার্নিয়ার কারণ ও চিকিৎসা
আমাদের দেশে প্রায়ই এমন একটি পরিচিত রোগ দেখা যায়, যাতে নাড়ি-ভূড়ির একটি অংশ উদরগাত্র ভেদ করে অণ্ডথলিতে নেমে যায়। মানুষের পেটের ভেতরে খাদ্যনালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি বিশ থেকে ত্রিশ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। হার্নিয়ার ক্ষেত্রে পেটের কিছু দুর্বল অংশ দিয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রের অংশবিশেষ অণ্ডথলিতে চলে আসে। তখন কুচকি এবং অণ্ডথলি অস্বাভাবিক ফুলে যায়, ব্যথা হয়।
কারণ : আমাদের পেটের কিছু অংশ আছে, যেগুলো আশপাশের অংশ থেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল থাকে। অনেকের জন্মগতভাবে এ অংশগুলো দুর্বল থাকে। পেটের ভেতরের চাপ যদি বেশি হয়, যেমন- অনেক দিনের পুরানো হাঁচি, কাশি বা কোষ্ঠকাঠিন্য আছে, তাদের বেলায় ক্ষুদ্রান্ত্রের দুর্বল অংশগুলো দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। উদর ও ঊরুর সংযোগস্থলে হার্নিয়া হতে পারে। এটা সাধারণত পুরুষের হয়। নারীর ক্ষেত্রে ঊরুর ভেতরের দিকে স্ফীত দেখা যায়। নাভির চারপাশে বা কোনো একপাশে ফুলে যায়। একে বলে নাভির হার্নিয়া। আগে অস্ত্রোপাচার করা হয়েছে- এমন জায়গায়ও হার্নিয়া হতে পারে। একে বলে ইনসিশনাল হার্নিয়া। ভারী জিনিস তুলতে গিয়েও হতে পারে। পুরুষের প্রস্টেটের অসুখ, মূত্রাশয়ের অসুখের কারণে হতে পারে। চাপ দিয়ে প্রস্রাব করলে হতে পারে। প্রসবের পর ভারী কাজ বা অনবরত সিঁড়ি ভাঙলে হার্নিয়া হতে পারে।
রোগ নির্ণয় : সাধারণত শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে ইনগুইনাল হার্নিয়া নির্ণয় করা হয়। চিকিৎসক কুঁচকির এলাকার ফোলা পরীক্ষা করে অনেক সময় হার্নিয়া নির্ণয় করেন। যেহেতু কাশি দিলে হার্নিয়া বেশি স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয়, তাই কাশি দেওয়াটাও চিকিৎসকের জন্য পরীক্ষার একটা অংশ হতে পারে।
জটিলতা : অপারেশনের মাধ্যমে হার্নিয়া ঠিক না করলে ক্রমে হার্নিয়া বড় হতে থাকে। বড় হার্নিয়া চারপাশের টিস্যুর ওপর চাপ প্রয়োগ করে। পুরুষের ক্ষেত্রে হার্নিয়ার সবচেয়ে মারাত্মক জটিলতা হলো- যখন অন্ত্রের অংশ পেটের দেয়ালের দুর্বল জায়গায় আটকে যায়, তখন প্রচণ্ড ব্যথা হয়, বমি বমি ভাব ও বমি হয় এবং পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়। বায়ু চলাচল করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে অন্ত্রের আটকে পড়া অংশে রক্ত চলাচল কমে যায়। এ অবস্থার নাম স্ট্রাংগুলেশন। এ কারণে আক্রান্ত অন্ত্রের টিস্যুর মৃত্যু ঘটতে পারে। স্ট্রাংগুলেটেড হার্নিয়া একটি জীবন-মরণ সমস্যা। এ ক্ষেত্রে জরুরি অপারেশনের প্রয়োজন হয়।
চিকিৎসা : যদি হার্নিয়া ছোট থাকে এবং কোনো সমস্যা সৃষ্টি না কcv তাহলে চিকিৎসকরা অনেক সময পর্যবেক্ষণ ও অপেক্ষার কথা বলেন। কিন্তু হার্নিয়া যদি বড় হতে থাকে এবং ব্যথা হয়, তাহলে অস্বস্তি দূর করতে ও মারাত্মক জটিলতা প্রতিরোধে চিকিৎসক অপারেশনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। হার্নিয়ার অপারেশন দুধরনের- হার্নিয়োর্যাফি ও হার্নিয়োপ্লার্স্টি।
প্রতিরোধ : জন্মগত ত্রুটির কারণে হার্নিয়া হলে তা প্রতিরোধ করা যায় না, চিকিৎসা করতে হয়। কিছু পরামর্শগুলো মেনে চললে পেটের মাংসপেশি ও টিস্যু বা কালার টান কমাতে পারা যায়। যদি স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে বেশি থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ব্যায়াম ও খাদ্যগ্রহণ করুন। উচ্চ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য ও টানটান অবস্থা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ভারী বস্তু উত্তোলনে সতর্ক হতে হবে। পারত পক্ষে ভারী বস্তু উত্তোলন করা যাবে না, যদি একান্তই উত্তোলন করতে হয়, তাহলে হাঁটু ভাঁজ করে শুরু করতে হবে, কখনও কোমর বাঁকানো যাবে না। ধূমপান বন্ধ করতে হবে। ধূমপান মারাত্মক রোগ। যেমন- ক্যানসার, এমফাইসেমা ও হৃরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া ধূমপান সচরাচর দীর্ঘস্থায়ী কাশির সৃষ্টি করে, যা ইনগুইনাল হার্নিয়া সৃষ্টিতে উৎসাহ জোগায়।