হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশ পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ আগস্ট, ২০২৬, 3:40 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ আগস্ট, ২০২৬, 3:40 PM
হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশ পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি
রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর যৌথ গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
চলতি বছরের মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৫৪ শিশুর ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে। গবেষণা এখনো চলমান রয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ফলাফল অবহিতকরণ সভায় গবেষণার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের ৪৩ শতাংশের বয়স তিন থেকে নয় মাসের মধ্যে। হামে আক্রান্ত ৩৮ শতাংশ শিশু জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গ বুকের দুধ পায়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি মাত্রার অপুষ্টিতে আক্রান্ত ছিল।
গবেষকেরা বয়স ও টিকা গ্রহণের তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করে বিশ্লেষণ করেন। এতে দেখা যায়, নয় মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। টিকা নেওয়ার বয়স হলেও টিকা না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের হাম শনাক্ত হয়।
এ ছাড়া এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জন এবং সুপারিশকৃত দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নির্দিষ্ট সন্দেহভাজন রোগীদের মধ্যে পাওয়া এই হারকে টিকা নেওয়া সব শিশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হিসেবে দেখা যাবে না। টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমণের পেছনে অ্যান্টিবডি কমে যাওয়া, অপুষ্টি বা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে।
গবেষণায় আক্রান্ত শিশুদের শরীরে শনাক্ত সব ভাইরাসই বি৩ উপশাখার অন্তর্ভুক্ত বলে জানানো হয়েছে। এসব ভাইরাস বিশ্বের অন্যান্য দেশে শনাক্ত বি৩ উপশাখার ভাইরাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া ভাইরাসের এইচ প্রোটিনের এপিটোপ অঞ্চলে চারটি পরিবর্তন বা মিউটেশন শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা।