ভূমি অফিস মনিটরিংয়ে ডিসিদের ১৪ নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ আগস্ট, ২০২৬, 3:39 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ আগস্ট, ২০২৬, 3:39 PM
ভূমি অফিস মনিটরিংয়ে ডিসিদের ১৪ নির্দেশনা
ভূমিসেবার মানোন্নয়ন, নাগরিক হয়রানি কমানো এবং দালালমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক ভূমি প্রশাসন নিশ্চিত করতে উপজেলা ভূমি অফিস, রাজস্ব সার্কেল এবং ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিস নিয়মিত মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ১৪টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে সম্প্রতি এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসক জেলার ভূমি প্রশাসনের প্রধান হিসেবে মাঠপর্যায়ের সব ভূমি অফিসের কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ভূমিসেবার গুণগত মান বৃদ্ধি, নাগরিক হয়রানি হ্রাস, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে হবে। ভূমিসংক্রান্ত আবেদন, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান, নকশা, রেকর্ড সংশোধনসহ অন্যান্য সেবা নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
ভূমিসেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গে ভালো আচরণ, হয়রানিমুক্ত পরিবেশ এবং সেবার মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনলাইন ভূমিসেবা, ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর ও ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সেবা প্রদানের নির্ধারিত ফি, প্রক্রিয়া ও সময়সীমা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শিত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ‘ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা সিস্টেম’ যথাযথভাবে ব্যবহার এবং দাখিল করা অভিযোগ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ভূমি অফিসের পরিচ্ছন্নতা, নথি সংরক্ষণ, রেকর্ড ব্যবস্থাপনা, তথ্য বোর্ড, নাগরিক সনদ, সেবার মানদণ্ড ও নির্দেশনা হালনাগাদ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে। সরকারি সম্পদ, কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক, সার্ভার সংযোগ ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।
ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পর্যালোচনার পাশাপাশি ভূমি আইন, বিধি, পরিপত্র ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসকদের আকস্মিক পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে। পরিদর্শনে সমস্যা, অনিয়ম বা সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হলে এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। গুরুতর অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও গৃহীত ব্যবস্থা উল্লেখ করে একটি মাসিক প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রত্যক্ষ তদারকি, কার্যকর নেতৃত্ব ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ভূমিসেবার গুণগত মান উন্নয়ন, সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘব এবং স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী ভূমি প্রশাসন প্রতিষ্ঠাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।