ঢাকা ১৪ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙ্গা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে নিহত বেড়ে ৮ সাভারে মা-ছেলেসহ ৩ ‘পেশাদার’ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ইয়াবা উদ্ধার ঢাকার আবাসিক ভবনে আগুন হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর প্রাণহানি নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যানি, এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন চকরিয়ায় সড়কে ঝরল ৪ প্রাণ প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি- এর চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পুনঃনির্বাচিত প্রভাতী ইন্সুরেন্স পিএলসি এর ৩০ তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত দুদকের অভিযোগ পরিসমাপ্তি : ষড়যন্ত্রের শিকার বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান এনআইডিতে জন্ম তারিখ সংশোধন নিষ্পত্তি করবে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা

হাতুড়ি দিয়ে দরজা ভেঙে সোহেলের ঘরে প্রবেশ করি: রামিসার বাবা

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ জুন, ২০২৬,  1:49 PM

news image

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (০২ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্য দেন নিহত রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রামিসার বাবা। সাক্ষ্যে আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। তার অফিস কাকলী এলাকায় হওয়ায় ক্যান্টনমেন্ট হয়ে সেখানে যাচ্ছিলেন। সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে বাসায় আসতে বলেন। তিনি আদালতকে বলেন, ফোন পাওয়ার পর বাসায় ফিরতে আমার ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে। এসে দেখি আমাদের ফ্ল্যাটের সামনে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে। দ্রুত ওপরে উঠে যাই। তখন আমার স্ত্রী অনেকক্ষণ ধরে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ডাকাডাকি করছিল, কিন্তু কেউ দরজা খুলছিল না। আব্দুল হান্নান মোল্লা জানান, পরে তিনি নিজেও দরজা খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে দরজার লক ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন, ভেতরে ঢুকে টয়লেটের সামনে সামান্য রক্ত দেখতে পাই। সাক্ষ্যগ্রহণকালে তিনি আদালতকে আরও বলেন, আমি আসামিকে জীবনেও দেখিনি। জবানবন্দি শেষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।  আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষী রয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণের ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সাক্ষীদের জবানবন্দিও গ্রহণ করা হবে। এর আগে গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান। ওইদিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।  মামলার অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে উক্ত অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।  গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। হত্যার পর রুমের জানালার গ্রিল কেটে উক্ত ১নং আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে উক্ত সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। আর নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।   রামিসার বাবা তার পরিবারের লোকজন নিয়া পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ফ্ল্যাটে ভাড়া বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকুরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। ভিক্টিম রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের ২য় শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম