নিজস্ব প্রতিনিধি
০৬ মে, ২০২৬, 11:18 AM
হবিগঞ্জে তলিয়েছে ১১ হাজার হেক্টর জমির ফসল, ক্ষতি ৩৫০ কোটি টাকা
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ জেলায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় তলিয়ে গেছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার হেক্টর জমির ধান। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এতে জেলার কৃষকদের প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সহায়তায় সরকার ইতোমধ্যে ত্রাণ ও কৃষি প্রণোদনার উদ্যোগ নিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলেই ছিল ৪৬ হাজার ৯৫৪ হেক্টর। আকস্মিক বন্যায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমি পুরোপুরি এবং ৩ হাজার হেক্টর জমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক দীপক কুমার পাল জানান, বিপর্যয়ের আগেই হাওরাঞ্চলের প্রায় ৬৫ শতাংশ ফসল কাটা সম্ভব হয়েছিল। তবে বাকি ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগের মতে, পানিতে ধান তলিয়ে যাওয়ায় ২০৯ কোটি টাকা এবং কাটার পর বৃষ্টির কারণে শুকাতে না পারায় আরও ১৩৪ কোটি টাকার ধান নষ্ট হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২১ হাজার কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করেছে প্রশাসন। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় এসব কৃষকদের আগামী ৩ মাস সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয় অভিযানও শুরু হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জ্যোতিবিকাশ ত্রিপুরা জানান, জেলায় ৮ হাজার ৯০ মেট্রিক টন ধান এবং প্রায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সংগ্রহ কার্যক্রমের ফলে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, গত সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় খোয়াই ও কুশিয়ারা নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১৫৭ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদীর পানি ১৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নদীর পানি কমলেও হাওরাঞ্চলের জলাবদ্ধতা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। সূত্র: এনটিভি