নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ মে, ২০২৬, 2:48 PM
স্মার্টফোন মানুষের সাধের মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
স্মার্টফোনকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য স্পেকট্রামের মাধ্যমে রাজস্ব কমানো নয়, বরং একটি শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে 'টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে?' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন রেহান আসিফ। তিনি জানান, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশলে ডেটা সেন্টার, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামোকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দেশের উন্নয়নে বড় সুযোগ তৈরি করবে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সঠিক নীতি, আধুনিক অবকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। টেলিকম খাত থেকে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে এই খাত থেকে জিডিপির ১৫ শতাংশ অবদান আসা সম্ভব বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি আরও জানান, সরকার এ খাতে বিশ্বের শীর্ষ ২০ এর মধ্যে অবস্থান নিশ্চিত করতে চায় এবং সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে টেলিকম খাতের জন্য একটি পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। বাজেটের পর রোডম্যাপ দেয়া হবে; এই রোডম্যাপ হবে সম্পূর্ণ পূর্বানুমেয়, ফলে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা থাকবে না। উপদেষ্টা বলেন, গত ছয় সপ্তাহে টেলিকম খাত সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। এসব বৈঠকে তাদের চাহিদা, সমস্যা ও প্রত্যাশা শোনা হয়েছে। এই খাতে করহার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও দেশের সামগ্রিক ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত এখনো কম। টেলিকম খাত বর্তমানে সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর রাজস্ব উৎস। কর কমানো হলে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে বলেও জানান তিনি। তবে সব সমস্যার সমাধান এক বাজেটেই সম্ভব না হলেও সরকার বাস্তবভিত্তিক সমাধানের চেষ্টা করবে। গার্মেন্টসে আমরা যেমন সুযোগ সুবিধা দিয়েছি; বাংলাদেশকে একটা হাব করতে আমরা ইলেকট্রনিকস খাতেও তেমন সুযোগ সুবিধা দেব। অন্যদিকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, টেলিকম কানেক্টিভিটি নিয়ে সরকার একটি মাস্টারপ্ল্যান চেয়েছে এবং তা নিয়ে কাজ চলছে। স্পেকট্রামের দাম কমালে সরকারের রাজস্ব কমবে, তবে জনগণের স্বার্থে তা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা এখনও পর্যাপ্ত নয়। সরকার ব্যবসার চেয়ে সেবা নিশ্চিত করাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। টেলিটককে দেয়া স্পেকট্রাম নিয়েও কোনো অস্বচ্ছতা ছিল না। টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী বলেন, নিলামের পর অবিক্রীত ফ্রিকোয়েন্সি টেলিটককে দেয়া হয়েছে, না হলে তা অব্যবহৃত পড়ে থাকত। সরকার টেলিটকের পরিচালন ব্যয়ে কোনো ভর্তুকি দেয় না। জ্বালানি সংকটের সময় ডিজেল সরবরাহে বিটিআরসি সহায়তা করেছে। টেলিটক প্রাপ্ত স্পেকট্রাম ব্যবহারে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা সরকারকে দেবে। এদিকে অ্যামটবের মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, অতীতে এ খাতে বৈষম্য ছিল। ডিজিটালাইজেশনকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। ডেটা সেন্টারকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘোষণা করে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এআই-চালিত ডেটা সেন্টার গড়ে তুলতে বিশেষায়িত পদক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) সহজ করা এবং ট্যাক্সের চাপ কমিয়ে খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বির হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ডিজিটাল ইকোনমি রোডম্যাপ, ভবিষ্যত উপযোগী টেলিকম নীতি, নীতিগত সংস্কার, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডেটা গভর্নেন্সের মতো কৌশলগত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।