ঢাকা ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
এক বছরে দুই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, পদত্যাগের ঘোষণা স্পেনের মন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বিসিবি, যা জানা গেল ৪০৬৮ কোটির দুই প্রকল্প উদ্বোধনে বৃহস্পতিবার মোংলা যাবেন প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ: মজুরি বোর্ড সাভারে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ওসিসহ আহত ৫০ নিম্নতম মজুরি বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান এনআইডি সংশোধনে জালিয়াতি, কঠোর অবস্থানে ইসি

সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ নভেম্বর, ২০২৬,  3:05 PM

news image

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি তারকা হোটেলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ বর্তমানে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সঙ্গে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।


তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যকে গতিশীল করতে হবে। এজন্য ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।



সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও নীতির সমন্বয়ে বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্রমগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে মানবাধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।


মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন ও আন্তসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।


অনুষ্ঠানে আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে আইওএমের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর অনুরোধ করেন।


ব্রিফিংয়ে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পরিবর্তিত ভ্রমণ পরিস্থিতি ও কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় প্রয়োজন। সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে আইওএম আগ্রহী।


অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।


এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


আলোচনায় বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি মানবপাচার, আন্তসীমান্ত অপরাধ এবং পরিচয় জালিয়াতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। একইসঙ্গে আইওএমের প্রস্তাবিত কৌশলগত রূপরেখায় চারটি সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়। এগুলো হলো সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও তথ্য আদান-প্রদান, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টে অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম