নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, 10:57 AM
সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই হবে কিংমেকার
বিভিন্ন জরিপের পূর্বাভাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বাকি ১৮ দিন। নির্বাচনি মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মুখোমুখি অবস্থান দিনে দিনে জটিল হচ্ছে। ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতিতে সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, এখনো ১৭ থেকে ২০ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্তহীন। যাদের ভোটই শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের হিসাব উল্টে দিতে পারে। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ‘তুরুপের তাস’। সিদ্ধান্তহীন ভোটারের বড় অংশই এ ভোটব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত। জাতীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কখনো ৪০ শতাংশের নিচে, আবার কখনো ৮৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় মাত্র ১০ শতাংশ ভোটই জয়পরাজয়ের নিয়ামক হতে পারে। ফলে এ ভোটারদের কেন্দ্রে আনা ও নিজেদের পক্ষে টানাই এখন ক্ষমতাপ্রত্যাশী দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য। মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের কাছে পৌঁছাতে মরিয়া বিভিন্ন দল ও জোট। মামলা ও গ্রেপ্তার থেকে রক্ষার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। কুমিল্লা, ভোলা, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী-সমর্থকের বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের খবরও মিলেছে। ২৩ ডিসেম্বর ‘স্টার নির্বাচনি সংলাপ’-এ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের বাক্সে নেওয়ার জন্য বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে এবং তাদের মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপগুলোও এ টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইনোভিশন কনসালটিংয়ের জরিপে আওয়ামী লীগের প্রতি উল্লেখযোগ্য (১৮.৮০ শতাংশ) সমর্থন দেখা গেলেও নির্বাচনে দলটির অনুপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর ভোটারের গতিপথ বদলাতে শুরু করে। ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, আসন্ন নির্বাচনে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে, ১৯ শতাংশ জামায়াত এবং ২ দশমিক ৬ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দিতে চায়। আওয়ামী লীগের ভোটারের ৬০ শতাংশ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। পরের সপ্তাহে ১২ জানুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি) প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপিকে, ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ জামায়াতকে, ৭ দশমিক ১ শতাংশ এনসিপিকে, ৩ দশমিক ১ শতাংশ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ভোট দিতে চায়। ওই জরিপে ১৭ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন। যাদের বড় অংশ আওয়ামী লীগপন্থি বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, ‘পাঁচ-দশটি ভোটেও জয়পরাজয় নির্ধারিত হয়। সেখানে ১৭ শতাংশ সিদ্ধান্তহীন ভোটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভোট না-ও দিতে পারেন। এ ছাড়া ব্যালট নষ্ট বা বিকল্প প্রার্থী বেছে নিতে পারেন। বিশেষ করে কট্টর আওয়ামী সমর্থকদের ভোটদানে বিরত থাকার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কিছু ভোটার বিভক্ত হয়ে যাবে। পছন্দমতো বিকল্প প্রার্থীকে ভোট দেবে। এ ক্ষেত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের পর কোন দল বেশি রাজনৈতিক সংস্কার করতে পেরেছে, পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে, তাদের আচরণ কেমন ছিল-এ বিষয়গুলো বিবেচনায় থাকবে। প্রতিটি দল এ ভোটগুলো টানতে কৌশল নেবে।’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিনের মতে ‘আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে। কোন দল বা প্রার্থী এ ভোট পাবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় রাজনীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর। যারা তাদের আশ্রয়প্রশ্রয় দিয়েছে, নিরাপদ পরিবেশে থাকতে সাহায্য করেছে তারা সেই দল বা প্রার্থীকেই বেছে নেবে। এলাকাভেদে এ চিত্র ভিন্ন হতে পারে।’ সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন