NL24 News
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, 8:59 PM
সাভারে ৪০ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা-গ্রেপ্তার ৪, বিএনপি বলছে গায়েবি
ফয়জুল ইসলামঃ সাভারের আমিনবাজারে বিএনপির সমাবেশ শেষে হেমায়েতপুর এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে সাভার উপজেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করেছে। গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আবদুল জলিল মণ্ডল। পরবর্তীতে শুক্রবার রাতে ওই মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোঃ আক্তার হোসেন কবিরাজ (৫২), উয়ালিউল্লাহ ওয়ালিদ (৩৭), মোঃ সজীব হোসেন (৩৪) ও ভাকুর্তা ইউনিয়ন তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনিকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা-পুলিশ।
মামলায় পুলিশ অভিযোগ, বৃহস্পতিবার আমিনবাজারে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা বিএনপির সমাবেশ শেষে ফেরার পথে বিএনপির নেতা-কর্মীরা হেমায়েতপুর এলাকায় জড়ো হয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, এসব গায়েবি মামলা দিয়ে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বিএনপির যৌক্তিক আন্দোলনকে দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করাসহ বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়া ব্যক্তিদেরকেও মামলায় আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে সাভারের আমিনবাজারে মিরপুর মফিদ-ই-আম স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে ঢাকা জেলা বিএনপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন সাভার মডেল থানা-পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমিনবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। বিকেলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সমাবেশ থেকে ফেরার পথে সাভারের হেমায়েতপুরে তানিন প্লাস্টিক চেয়ার কারখানার গোডাউনের সামনের পাকা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও চলন্ত গাড়ি ভাঙচুর করেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশের ওই দল বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা দৌড়ে পালিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে ঘটনার জন্য দায়ী হিসেবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের চিহ্নিত করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি কালো রঙের শপিং ব্যাগে পাঁচটি অবিস্ফোরিত ককটেল, তিনটি বিস্ফোরিত ককটেলের খোসা, নয়টি কাচের টুকরা ও বিএনপির এক দফা দাবিসংবলিত ব্যানার জব্দ করা হয়। পরে ওই দিন রাতেই পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ আবদুল জলিল মণ্ডল বাদী হয়ে মামলা করেন।
ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি কফিল উদ্দিন বলেন, আমার বাড়ি আমিনবাজারে। আমরা তো ওই এলাকায় (হেমায়েতপুর) কেন যাবো? অযথাই আমাদের নামে গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। নেতা-কর্মীদের হয়রানি করতেই এ মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মামলার বাদী ও সাভার মডেল থানার এসআই মোঃ আবদুল জলিল বলেন, আমিনবাজারে বিএনপির সমাবেশ থেকে ফেরার পথে বিএনপির নেতা-কর্মীরা হেমায়েতপুরে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। ঘটানাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের খোসা, অবিস্ফোরিত ককটেল এবং ভাঙা কাচের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে ঘটনাস্থলের অদূরে ভাই ভাই ভল্কানাইজিং দোকানের মালিক মোঃ আলম বলেন, ‘ওই দিন আমরা দোকানের ভেতরে বসা ছিলাম। পরপর তিনটি শব্দ শুনতে পাই। আমরা ভেবেছি, বিয়ের অনুষ্ঠানের পটকা ফোটানোর শব্দ। পরে পুলিশ আসল। তারা একটা বালতি আর পানি লাগবে বলে জানায়। আমিসহ দোকানের ছেলেটা বালতি আর পানি নিয়ে ওখানে (ঘটনাস্থলে) যাই। সেখানে গাড়ির কাঁচ বা এমন কিছু ছিল না। কেবল বিএনপির একটা পোস্টার ছিল, আর পাঁচটা কসটেপ প্যাচানো বস্তু ছিল। সেগুলো ককটেল কি না, বলতে পারব না। আমরা উঠাইয়া ওইগুলা বালতির মধ্যে দিছি।
আবুল কালাম আসাদ নামে একজন নিজেকে প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে বলেন, ‘ওই দিন আমি মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলাম। হেমায়েতপুরে তানিন প্লাস্টিক চেয়ার কারখানার গোডাউনের সামনে দিয়ে শতাধিক লোক একটা ব্যানার নিয়ে যাওয়ার সময় দুই-তিনটা শব্দ হইছে। আমি কতক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পর পুলিশ আসার আগেই তারা দৌড়াইয়া পালাইয়া যায়। তবে গাড়ি ভাঙচুর করছে কি না, আমি দেখি নাই।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহপরিবারকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি খন্দকার মাইনুল হোসেন বিল্টু, সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি কফিল উদ্দিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোঃ খোরশেদ আলম, সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফুদ্দিন, সাভার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামানসহ ৪০ জন এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।