নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জুন, ২০২৩, 4:44 PM
সাংবাদিক নাদিম হত্যা: ইউপি চেয়ারম্যানকে আনা হচ্ছে ঢাকায়
জামালপুরে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যার তিন দিন পর মূল অভিযুক্ত বকশীগঞ্জের সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুকে গ্রেফতারের পর ঢাকায় নিয়ে আসছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার (১৭ জুন) দুপুরে সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুকে মাইক্রোবাসে করে ঢাকায় আনা হচ্ছে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগে সকালে দেবীগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) কনক কুমার দাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে এখনও গ্রেফতার হননি হামলায় সরাসরি অংশ নেয়া চেয়ারম্যানের ছেলে। নাদিম হত্যায় চেয়ারম্যান বাবুসহ এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে বাবু ছাড়া অন্যদের পরিচয় জানানো হয়নি। গ্রেফতার অন্য ১০ জন চেয়ারম্যান বাবুর অনুসারী বলে জানা গেছে। হত্যার তিন দিন পর শনিবার দুপুরে বকশীগঞ্জ থানায় ২২ জনের নাম উল্লেখসহ ৪৭ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম। মামলার প্রধান আসামি সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু। এদিকে নাদিম হত্যার ঘটনায় মাহমুদুল আলম বাবুকে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। শুক্রবার (১৬ জুন) রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর শাহিনা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইলের যৌথ স্বাক্ষরে সাংবাদিক নাদিম হত্যায় অভিযুক্ত বাবুকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। তাকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে উপস্থিত হয়ে ৭ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতেও বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, বুধবার (১৪ জুন) রাতে বকশীগঞ্জ বাজার থেকে নিলক্ষীয়ায় বাড়ি ফিরছিলেন বাংলানিউজের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি নাদিম। এ সময় ১০ থেকে ১২ জন দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে পিটিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি করেন। পরদিন (১৫ জুন) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হয়।